ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর বিচার

  • থিম বিক্রয়
  • প্রকাশিত সময় : ০৩:২৪:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৯ পড়ছেন

প্রতিকী ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার আশুলিয়া থানার কাছে লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুই আসামিকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর রাজসাক্ষী হওয়ায় একজনকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৯ আসনের তৎকালীন সংসদ-সদস্য সাইফুল ইসলাম এবং আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ।

গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকার যে দমন-পীড়ন চালিয়েছিল, তার মধ্যে আশুলিয়ার ঘটনাটি ছিল অন্যতম নারকীয়। ওই বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহতদের মরদেহ ভ্যানে স্তূপ করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার সেই বীভৎস দৃশ্য দেশবাসী তো বটেই, বিশ্ববিবেককেও নাড়িয়ে দিয়েছিল। মানুষের মরদেহকে আবর্জনার মতো ভ্যানে স্তূপ করা এবং প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া শুধু অপরাধ নয়, এটি ছিল মানবতার চরম অবমাননা। সভ্য সমাজে এমন নৃশংসতা অকল্পনীয়। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের শাস্তি অনিবার্য। আদালতের রায় প্রমাণ করে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এই রায়ের মাধ্যমে একটি কঠোর বার্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে : রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড এবং মরদেহ গুম করার চেষ্টা করে পার পাওয়া সম্ভব নয়। সাবেক সংসদ-সদস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা ব্যক্তিকে দেওয়া এই সাজা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিকদের জন্য এক সতর্কবার্তা।

রায়ে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ দণ্ড দেওয়া হলেও এ বিচারিক প্রক্রিয়ার পূর্ণতা আসবে উচ্চ আদালতের রায়ের পর। দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী অপরাধীরা আইনি মারপ্যাঁচে সময়ক্ষেপণ করে থাকে। এই স্পর্শকাতর মামলার ক্ষেত্রে যেন কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রতা তৈরি না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং ভবিষ্যতে এমন পৈশাচিকতার পুনরাবৃত্তি রোধে এই রায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। সরকারের উচিত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা এবং প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর বিচার

প্রকাশিত সময় : ০৩:২৪:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার আশুলিয়া থানার কাছে লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুই আসামিকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর রাজসাক্ষী হওয়ায় একজনকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৯ আসনের তৎকালীন সংসদ-সদস্য সাইফুল ইসলাম এবং আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ।

গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকার যে দমন-পীড়ন চালিয়েছিল, তার মধ্যে আশুলিয়ার ঘটনাটি ছিল অন্যতম নারকীয়। ওই বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহতদের মরদেহ ভ্যানে স্তূপ করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার সেই বীভৎস দৃশ্য দেশবাসী তো বটেই, বিশ্ববিবেককেও নাড়িয়ে দিয়েছিল। মানুষের মরদেহকে আবর্জনার মতো ভ্যানে স্তূপ করা এবং প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া শুধু অপরাধ নয়, এটি ছিল মানবতার চরম অবমাননা। সভ্য সমাজে এমন নৃশংসতা অকল্পনীয়। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের শাস্তি অনিবার্য। আদালতের রায় প্রমাণ করে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এই রায়ের মাধ্যমে একটি কঠোর বার্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে : রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড এবং মরদেহ গুম করার চেষ্টা করে পার পাওয়া সম্ভব নয়। সাবেক সংসদ-সদস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা ব্যক্তিকে দেওয়া এই সাজা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিকদের জন্য এক সতর্কবার্তা।

রায়ে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ দণ্ড দেওয়া হলেও এ বিচারিক প্রক্রিয়ার পূর্ণতা আসবে উচ্চ আদালতের রায়ের পর। দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী অপরাধীরা আইনি মারপ্যাঁচে সময়ক্ষেপণ করে থাকে। এই স্পর্শকাতর মামলার ক্ষেত্রে যেন কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রতা তৈরি না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং ভবিষ্যতে এমন পৈশাচিকতার পুনরাবৃত্তি রোধে এই রায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। সরকারের উচিত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা এবং প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।