ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শোলার তৈরি ফুলেই সংসার চলছে রেখা বিশ্বাসের

  • থিম বিক্রয়
  • প্রকাশিত সময় : ০৬:২৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৭ পড়ছেন

বিলের খুব পরিচিত আগাছা হচ্ছে শোলা। হ্যাঁ, এটা সবার কাছে আগাছা বা অপ্রয়োজনীয় হলেও কারো কারো কাছে শিল্পের উপকরণ, আয়ের ব্যবস্থা। শোলা গাছ সংগ্রহ করে তার ভেতরের সাদা অংশ দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের ফুল ও মালা। হস্ত শিল্পীরা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে শোলা কেটে বিভিন্ন আকার দেন এবং পরে তাতে রং ও সুতা দিয়ে আকৃতি দেন। তাতে তৈরি হয় নানা ধরনের ফুল, মালা, বাচ্চাদের খেলনা এবং ঘর সাজানোর উপকরণ।

মাগুরা জেলের ১নং পৌরসভার কাদিরাবাদ গ্রামে শোলার তৈরি ফুল দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এগুলো বিক্রি করে সংসার চলছে অনেকগুলো পরিবারের। এলাকার নারী-পুরুষ সবাই মিলে শিল্পের ছোঁয়ায় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে শোলা কেটে বিভিন্ন আকার দেন এবং পরে তাতে রং ও সুতা দিয়ে আকৃতি প্রদান করেন। শোলার তৈরি ফুলগুলো নষ্ট হয় না, রং উজ্জ্বল থাকে এবং অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এই ফুল ও মালা নানা পূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হয়।

ফুল তৈরির প্রধান কারিগর রেখা বিশ্বাস বলেন, ‘মাঘ মাসে বিলের পানি শুকিয়ে গেলে ফুল শোলা কুড়িয়ে এনে ফুল, মালা তৈরি করে হাটে বাজারে বিক্রি করি। শোলার তৈরি চাঁদমালা, মুকুট, কদম কিংবা ঝোরা ফুল তৈরি করি। একই সঙ্গে শুভ কাজ বা মানতের জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়। আমাদের অনেক প্রতিবেশী হাতের কাজে সহযোগিতা করেন বলে আমরা ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ফুল-মালা বিক্রি করে আমাদের সারাবছর সংসার চলে। আমরা যদি সরকারি কোনো সাহায্য পাই তাহলে একটা কারখানা করতাম, এতে আমাদের কাজ আরও বেশি হতো, আয়ও বাড়ত।’

কারিগর রেখার স্বামী রনজীত বিশ্বাস বলেন, ‘কাঁচা শোলার সংকট আছে, মাঠে পানি কম হওয়ায় শোলা কম হয়। বছরে ২টা মৌসুম শ্রাবণ ও মাঘ মাসে আমরা এই কাজ বেশি করি। এই দুই সিজনেই ১ লাখ টাকা উপার্জন হয়। শত কষ্টের মধ্যেও এখনো বাপ-দাদার এই হস্তশিল্প পেশাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছি। এই গ্রামের ১২ থেকে ১৫টি পরিবার এ পেশায় নিয়োজিত আছে। আমরা সরকারি সহযোগিতা পেলে হয়তো আরও বড় পরিসরে ফুল তৈরির কারখানা করতাম।’

এলাকার যুবক সিজান বলেন, ‘রেখা দিদিকে ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি তিনি ও তার স্বামী মিলে এই শোলার তৈরি কদম ফুল, ঝোরা ফুল তৈরির মাধ্যমেই এ শিল্পকর্মটি বাঁচিয়ে রেখেছেন। বংশ পরম্পরায় তারা এ পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাদেরকে যদি সরকারি সহায়তা বা কোনো সংস্থা সহযোগিতা করতো তাহলে তারা এই শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারতো। একদিন হয়তো রেখা দিদি সফল নারী উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারবে, পাশাপাশি এলাকার অনেক নারী কর্মীরাও তার সঙ্গে কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করতে পারবে।’

কাদিরাবাদ গ্রামের প্রবীণ রাজকুমার বলেন, ‘রেখা ও রনজীত দীর্ঘদিন ধরে এই ফুল, মালা, মুকুট তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তারা অনেক কষ্ট করেন, এই কাজের ভেতর দিয়ে সংসার চালাতে হিমসিম খায়। আমি আশীর্বাদ করি তারা যেন ভালো কিছু করতে পারে, তাদের যেন ভালো হয়।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

শোলার তৈরি ফুলেই সংসার চলছে রেখা বিশ্বাসের

প্রকাশিত সময় : ০৬:২৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিলের খুব পরিচিত আগাছা হচ্ছে শোলা। হ্যাঁ, এটা সবার কাছে আগাছা বা অপ্রয়োজনীয় হলেও কারো কারো কাছে শিল্পের উপকরণ, আয়ের ব্যবস্থা। শোলা গাছ সংগ্রহ করে তার ভেতরের সাদা অংশ দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের ফুল ও মালা। হস্ত শিল্পীরা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে শোলা কেটে বিভিন্ন আকার দেন এবং পরে তাতে রং ও সুতা দিয়ে আকৃতি দেন। তাতে তৈরি হয় নানা ধরনের ফুল, মালা, বাচ্চাদের খেলনা এবং ঘর সাজানোর উপকরণ।

মাগুরা জেলের ১নং পৌরসভার কাদিরাবাদ গ্রামে শোলার তৈরি ফুল দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এগুলো বিক্রি করে সংসার চলছে অনেকগুলো পরিবারের। এলাকার নারী-পুরুষ সবাই মিলে শিল্পের ছোঁয়ায় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে শোলা কেটে বিভিন্ন আকার দেন এবং পরে তাতে রং ও সুতা দিয়ে আকৃতি প্রদান করেন। শোলার তৈরি ফুলগুলো নষ্ট হয় না, রং উজ্জ্বল থাকে এবং অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এই ফুল ও মালা নানা পূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হয়।

ফুল তৈরির প্রধান কারিগর রেখা বিশ্বাস বলেন, ‘মাঘ মাসে বিলের পানি শুকিয়ে গেলে ফুল শোলা কুড়িয়ে এনে ফুল, মালা তৈরি করে হাটে বাজারে বিক্রি করি। শোলার তৈরি চাঁদমালা, মুকুট, কদম কিংবা ঝোরা ফুল তৈরি করি। একই সঙ্গে শুভ কাজ বা মানতের জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়। আমাদের অনেক প্রতিবেশী হাতের কাজে সহযোগিতা করেন বলে আমরা ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ফুল-মালা বিক্রি করে আমাদের সারাবছর সংসার চলে। আমরা যদি সরকারি কোনো সাহায্য পাই তাহলে একটা কারখানা করতাম, এতে আমাদের কাজ আরও বেশি হতো, আয়ও বাড়ত।’

কারিগর রেখার স্বামী রনজীত বিশ্বাস বলেন, ‘কাঁচা শোলার সংকট আছে, মাঠে পানি কম হওয়ায় শোলা কম হয়। বছরে ২টা মৌসুম শ্রাবণ ও মাঘ মাসে আমরা এই কাজ বেশি করি। এই দুই সিজনেই ১ লাখ টাকা উপার্জন হয়। শত কষ্টের মধ্যেও এখনো বাপ-দাদার এই হস্তশিল্প পেশাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছি। এই গ্রামের ১২ থেকে ১৫টি পরিবার এ পেশায় নিয়োজিত আছে। আমরা সরকারি সহযোগিতা পেলে হয়তো আরও বড় পরিসরে ফুল তৈরির কারখানা করতাম।’

এলাকার যুবক সিজান বলেন, ‘রেখা দিদিকে ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি তিনি ও তার স্বামী মিলে এই শোলার তৈরি কদম ফুল, ঝোরা ফুল তৈরির মাধ্যমেই এ শিল্পকর্মটি বাঁচিয়ে রেখেছেন। বংশ পরম্পরায় তারা এ পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাদেরকে যদি সরকারি সহায়তা বা কোনো সংস্থা সহযোগিতা করতো তাহলে তারা এই শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারতো। একদিন হয়তো রেখা দিদি সফল নারী উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারবে, পাশাপাশি এলাকার অনেক নারী কর্মীরাও তার সঙ্গে কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করতে পারবে।’

কাদিরাবাদ গ্রামের প্রবীণ রাজকুমার বলেন, ‘রেখা ও রনজীত দীর্ঘদিন ধরে এই ফুল, মালা, মুকুট তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তারা অনেক কষ্ট করেন, এই কাজের ভেতর দিয়ে সংসার চালাতে হিমসিম খায়। আমি আশীর্বাদ করি তারা যেন ভালো কিছু করতে পারে, তাদের যেন ভালো হয়।’