ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের

ছবি: প্রতিদিনের পোস্ট

সাতক্ষীরা জেলার একটি প্রসিদ্ধ ফলের নাম কুল। এ জেলার নাম করণে গানিতিক ভাবে যে সাতটি জিনিস প্রসিদ্ধ তার মধ্যে অন্যতম ফল কুল। সাতক্ষীরা জেলায় বানিজ্যিক ভাবে চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতের কুল।

সাতক্ষীরার বেলে দোঁয়াশ মাটি ও নাতি শীতোষ্ণ জলবায়ু কুল চাষের উপযোগী। অনুকূল আবহাওয়া আর কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় বাণিজ্যিক ভাবে কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে সাতক্ষীরার কৃষকদের। ফলে দিন দিন সাতক্ষীরায় কুলের আবাদ বাড়ছে। খেতে সু-স্বাধু হওয়ায় সাতক্ষীরার কুলের চাহিদা রয়েছে দেশ জুড়ে। তবে সাতক্ষীরার আমের পাশাপাশি সু-স্বাধু এই কুল বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন কৃষি বিভাগ।

সাতক্ষীরায় অন্যান্য ফসলের তুলনায় কুল চাষে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকরা এ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

ইতিমধ্যে সাতক্ষীরা কুল চাষের সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার কুলের চাষ হয়েছে। যা থেকে ১৫ হাজার মেট্রিকটন কুল উৎপাদন হবে এবং যার বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। সাতক্ষীরার মাটি কুল চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় দিন দিন কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে সাতক্ষীরার কৃষকদের। ভাল ফলন, কম খরচ আর লাভ বেশি হওয়ায় এ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ শুরু করে চাষীরা। অন্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় সাতক্ষীরার বেশির ভাগ অনাবাদি জমি এখন সারি সারি কুল গাছে ছেয়ে গেছে। গাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে বল সুন্দরী, ভারত সুন্দরী, থাই, আপেল, বাউ কুল, তাইওয়ান কুল, নারিকেল কুল, ঢাকা নাইনটি, টক কুলসহ নানা জাতের কুল।

সদর উপজেলার বাঁশদহা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের কৃষক ইমদাদুল হক জানান, তার ভবানীপুর মাঠে দুই বিঘা কুলের বাগান রয়েছে। তার কুল বাগানে তিন রকমের কুল রয়েছে। সেগুলো হলো ভারত সুন্দরী, বল সুন্দরী ও টক কুল। গত বছরের তুলনায় তার বাগানে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাচ্ছেন।

তবে দ্রব্য মূল্যের উর্দ্ধততির কারনে বিশেষ করে কীটনাশক ও সারের যে পরিমানে দাম তাতে চাষে খরচ বেশী পড়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, তার দুই বিঘা জমিতে কুল চাষে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। দুই বিঘা জমিতে তিনি প্রায় ১ লাখ টাকার কুল বিক্রি করবেন বলে আশাবাদী। তবে, সার কীট নাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার লাভটা কম হবে বলে তিনি আশংকা করছেন।

একই এলাকার কুলচাষী মোরশেদুল আলম জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে চার প্রকারের কুল চাষ করেছেন।

টক, থাই আপেল, বল আপেল ও বিলাতি কুল। তিনি বলেন, বিলাতি কুল ১৭০-১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অন্য গুলো ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কুল বাগানের শ্রমিক আকছেদ আলী জানান, সারাদিন কুল বাগানে কাজ করে তিনি প্রতিদিন সাড়ে ৩ থেকে ৪’শ টাকা পান। তাই দিয়ে তিনি তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভালোই আছেন।

বাঁশদহা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা কামরুল হাসান ডালিম জানান, এই ইউনিয়নে প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে এবার কুল চাষ হয়েছে। এসব জমিতে থাই কুল, আপেল কুল, নারিকেল কুল ও টক কুল চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে এসব কুল চাষীদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনির হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার কুলের আবাদ হয়েছে। যা থেকে ১৫ হাজার মেট্রিকটনের উপরে কুল উৎপাদন হবে এবং যার বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। ইতিমধ্যে এসব কুল বাজারে আসা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরার নামকরনে যে সাতটি প্রসিদ্ধ জিনিস রয়েছে তার মধ্যে কুল একটি অন্যতম ফল।

সাতক্ষীরার নামের সাথে কুলের যে ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে, সে ঐতিহ্যকে ধারন করে প্রকৃতিক দূর্যোগ প্রবন এ জেলায় উৎপাদিত কুল মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহন করা হচ্ছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের

প্রকাশিত সময় : ০৫:২১:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাতক্ষীরা জেলার একটি প্রসিদ্ধ ফলের নাম কুল। এ জেলার নাম করণে গানিতিক ভাবে যে সাতটি জিনিস প্রসিদ্ধ তার মধ্যে অন্যতম ফল কুল। সাতক্ষীরা জেলায় বানিজ্যিক ভাবে চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতের কুল।

সাতক্ষীরার বেলে দোঁয়াশ মাটি ও নাতি শীতোষ্ণ জলবায়ু কুল চাষের উপযোগী। অনুকূল আবহাওয়া আর কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় বাণিজ্যিক ভাবে কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে সাতক্ষীরার কৃষকদের। ফলে দিন দিন সাতক্ষীরায় কুলের আবাদ বাড়ছে। খেতে সু-স্বাধু হওয়ায় সাতক্ষীরার কুলের চাহিদা রয়েছে দেশ জুড়ে। তবে সাতক্ষীরার আমের পাশাপাশি সু-স্বাধু এই কুল বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন কৃষি বিভাগ।

সাতক্ষীরায় অন্যান্য ফসলের তুলনায় কুল চাষে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকরা এ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

ইতিমধ্যে সাতক্ষীরা কুল চাষের সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার কুলের চাষ হয়েছে। যা থেকে ১৫ হাজার মেট্রিকটন কুল উৎপাদন হবে এবং যার বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। সাতক্ষীরার মাটি কুল চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় দিন দিন কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে সাতক্ষীরার কৃষকদের। ভাল ফলন, কম খরচ আর লাভ বেশি হওয়ায় এ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ শুরু করে চাষীরা। অন্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় সাতক্ষীরার বেশির ভাগ অনাবাদি জমি এখন সারি সারি কুল গাছে ছেয়ে গেছে। গাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে বল সুন্দরী, ভারত সুন্দরী, থাই, আপেল, বাউ কুল, তাইওয়ান কুল, নারিকেল কুল, ঢাকা নাইনটি, টক কুলসহ নানা জাতের কুল।

সদর উপজেলার বাঁশদহা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের কৃষক ইমদাদুল হক জানান, তার ভবানীপুর মাঠে দুই বিঘা কুলের বাগান রয়েছে। তার কুল বাগানে তিন রকমের কুল রয়েছে। সেগুলো হলো ভারত সুন্দরী, বল সুন্দরী ও টক কুল। গত বছরের তুলনায় তার বাগানে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাচ্ছেন।

তবে দ্রব্য মূল্যের উর্দ্ধততির কারনে বিশেষ করে কীটনাশক ও সারের যে পরিমানে দাম তাতে চাষে খরচ বেশী পড়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, তার দুই বিঘা জমিতে কুল চাষে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। দুই বিঘা জমিতে তিনি প্রায় ১ লাখ টাকার কুল বিক্রি করবেন বলে আশাবাদী। তবে, সার কীট নাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার লাভটা কম হবে বলে তিনি আশংকা করছেন।

একই এলাকার কুলচাষী মোরশেদুল আলম জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে চার প্রকারের কুল চাষ করেছেন।

টক, থাই আপেল, বল আপেল ও বিলাতি কুল। তিনি বলেন, বিলাতি কুল ১৭০-১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অন্য গুলো ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কুল বাগানের শ্রমিক আকছেদ আলী জানান, সারাদিন কুল বাগানে কাজ করে তিনি প্রতিদিন সাড়ে ৩ থেকে ৪’শ টাকা পান। তাই দিয়ে তিনি তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভালোই আছেন।

বাঁশদহা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা কামরুল হাসান ডালিম জানান, এই ইউনিয়নে প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে এবার কুল চাষ হয়েছে। এসব জমিতে থাই কুল, আপেল কুল, নারিকেল কুল ও টক কুল চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে এসব কুল চাষীদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনির হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার কুলের আবাদ হয়েছে। যা থেকে ১৫ হাজার মেট্রিকটনের উপরে কুল উৎপাদন হবে এবং যার বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। ইতিমধ্যে এসব কুল বাজারে আসা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরার নামকরনে যে সাতটি প্রসিদ্ধ জিনিস রয়েছে তার মধ্যে কুল একটি অন্যতম ফল।

সাতক্ষীরার নামের সাথে কুলের যে ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে, সে ঐতিহ্যকে ধারন করে প্রকৃতিক দূর্যোগ প্রবন এ জেলায় উৎপাদিত কুল মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহন করা হচ্ছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।