ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কেসিসি নগরীতে পঞ্চাশ হাজার বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি শুরু করেছে: প্রশাসক মঞ্জু তালায় খাল সংস্কার, পাইপ স্থাপন ও জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমের উদ্বোধন তালায় শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ তালা উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদকের মৃত্যু তালায় জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন খোকসায় দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ খুলনায় আঞ্চলিক বিপণন কর্মশালা অনুষ্ঠিত খোকসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও এজিএমের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে মানববন্ধন স্পেনের পর উরুগুয়েকেও রুখে দিল লড়াকু কেপ ভার্দে শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রথম ধাপের আলোচনা, গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি

দশমিনায় নদীতে ইলিশের দেখা নেই জেলেরা হতাশ

  • রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত সময় : ০৯:০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ১৪ পড়ছেন

দশমিনা(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া-বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে ইলিশ শিকারে নেমে জেলেরা হতাশ হচ্ছেন| আশানুরূপ মাছ না পেয়ে তাদের কষ্টই বৃথা হয়ে যাচ্ছে| জেলেরা নদীতে জাল ফেলার পর কোন ইলিশ মাছ পাচ্ছে না| ফলে জেলেরা হতাশ হয়ে পড়েছে| জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব,সাগর ও নদীতে ডুবোচরের কারনে মাছের গতিপথ বদলে গেছে| কাংখিত মাছ না পেয়ে জেলেরা বিকল্প কর্মসংস্থানের দিকে ঝুঁকছেন|
উপজেলার গোলখালী মৎস্য ঘাট ও বাঁশবাড়িয়া ঘাটসহ হাট-বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর পাড়ে অনেক জেলে বসে আছেন| কেউ মাছ ধরতে জাল নিয়ে নদীতে যাচ্ছেন| আবার কেউ জাল ফেলে তেমন মাছ না পেয়ে নদীর পাড়ে চুপচাপ বসে আছেন| নিষেধাজ্ঞা শেষে যেখানে জালভর্তি মাছ পেয়ে জেলেদের মুখে সব সময় হাসির ঝিলিক লেগে থাকার কথা, সেখানে জেলের মুখ হয়ে আছে মলিন| কারণ, নদীতে ইলিশ শিকারের আয়োজনে তাঁদের খরচের টাকাই উঠছে না| উপজেলার গোলখালী এলাকা থেকে মধ্যরাতে মাছ ধরতে নদীতে নামেন জামাল হোসেনসহ চার জন এক নৌকায়| রাতে তিনটি ‘খেও’ (জাল ফেলে) দেওয়ার পর অল্প কিছু পোয়া মাছ ও রাম ছোর পেয়ে ঘাটে এসে নোঙর করে দুরচিন্তায় বসে আছে| জামাল বলেন, অভিযান (নিষেধাজ্ঞার) সময় আমরা নদীতে মাছ ধরতে যাই নাই| ঐ সময় গেলে মাছ বেশি পাইতাম| অভিযান (নিষেধাজ্ঞা) শেষে নদীতে নেমে দেহি কোনো মাছ নেই| রাত ভর তিন খেপ দিয়া মাত্র ৭-৯ কেজি পোয়া আর ছোর মাছ পাইছি | তাও সব ছোট মাছ আর ১৮০টাকা কেজি দরে বেঁচিছি| কি আর করমু| মনডা বেশি ভালা নাই| তাই চুপচাপ বইসা আছি|
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মাছ ধরতে আসা শাহ আলম খাঁ, জাহাঙ্গীর ও লাল মিয়াসহ আর প্রায় শতাধিক জেলে হতাশার সুরে বলেন, ‘নৌকা নামাতে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে| কেই গরু-বাছুর বিক্রি করে আর কেউ ঋন নিয়ে জাল-নৌকা নামাইছি| তয় নদীতে কোথাও মাছ নাই| গেল বছর প্রতি খেয় ২০-৩৫ কেজি কইরা বিভিন্ন প্রজাতের মাছ পাইছি| এবার দুই খেও দিইয়া মাত্র ৫কেজি মাছ পাইছি|’ তারা আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে যেখানে জালভর্তি মাছ পেয়ে জেলেদের মুখে সব সময় হাসির ঝিলিক লেগে থাকার কথা, সেখানে অধিকাংশ জেলের মুখ ছিল মলিন| কারণ, নদীতে ইলিশ শিকারের আয়োজনে তাঁদের খরচের টাকাই উঠছে না| বাজারে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে অনেক ইলিশ ধরা পড়বে ভেবে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন কিনতে এসেছেন বাজারে| না পেয়ে তাঁরা হতাশ মুখে ফিরে যাচ্ছেন| অধিকাংশ মাছের আড়ৎ ঘরের সামনে ডালায় সামান্য কিছু মাছ দেখা যায়| ক্রেতাদের ভিড়ে মাছের বাজারও বেশ চড়া| মৎস্য ব্যবসায়ী বাঁশবাড়িয়া ঘাটে মিরাজ খাঁ বলেন, ‘অন্যান্য বছর নিষেধাজ্ঞার পড়েও অনেক ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ত| গত বছর অনেক মাছ বেচাকেনা করেছি| ভালো মাছ ধরা পড়বে এই আশায় অনেকে ধার দেনা করে জাল ও নৌকা নামিয়েছি| নদীতে নেমে মাছ না পেয়ে আমরা হতাশ হচ্ছি| অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নদীতে মাছের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম|

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

rington bd

জনপ্রিয়

কেসিসি নগরীতে পঞ্চাশ হাজার বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি শুরু করেছে: প্রশাসক মঞ্জু

দশমিনায় নদীতে ইলিশের দেখা নেই জেলেরা হতাশ

প্রকাশিত সময় : ০৯:০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

দশমিনা(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া-বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে ইলিশ শিকারে নেমে জেলেরা হতাশ হচ্ছেন| আশানুরূপ মাছ না পেয়ে তাদের কষ্টই বৃথা হয়ে যাচ্ছে| জেলেরা নদীতে জাল ফেলার পর কোন ইলিশ মাছ পাচ্ছে না| ফলে জেলেরা হতাশ হয়ে পড়েছে| জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব,সাগর ও নদীতে ডুবোচরের কারনে মাছের গতিপথ বদলে গেছে| কাংখিত মাছ না পেয়ে জেলেরা বিকল্প কর্মসংস্থানের দিকে ঝুঁকছেন|
উপজেলার গোলখালী মৎস্য ঘাট ও বাঁশবাড়িয়া ঘাটসহ হাট-বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর পাড়ে অনেক জেলে বসে আছেন| কেউ মাছ ধরতে জাল নিয়ে নদীতে যাচ্ছেন| আবার কেউ জাল ফেলে তেমন মাছ না পেয়ে নদীর পাড়ে চুপচাপ বসে আছেন| নিষেধাজ্ঞা শেষে যেখানে জালভর্তি মাছ পেয়ে জেলেদের মুখে সব সময় হাসির ঝিলিক লেগে থাকার কথা, সেখানে জেলের মুখ হয়ে আছে মলিন| কারণ, নদীতে ইলিশ শিকারের আয়োজনে তাঁদের খরচের টাকাই উঠছে না| উপজেলার গোলখালী এলাকা থেকে মধ্যরাতে মাছ ধরতে নদীতে নামেন জামাল হোসেনসহ চার জন এক নৌকায়| রাতে তিনটি ‘খেও’ (জাল ফেলে) দেওয়ার পর অল্প কিছু পোয়া মাছ ও রাম ছোর পেয়ে ঘাটে এসে নোঙর করে দুরচিন্তায় বসে আছে| জামাল বলেন, অভিযান (নিষেধাজ্ঞার) সময় আমরা নদীতে মাছ ধরতে যাই নাই| ঐ সময় গেলে মাছ বেশি পাইতাম| অভিযান (নিষেধাজ্ঞা) শেষে নদীতে নেমে দেহি কোনো মাছ নেই| রাত ভর তিন খেপ দিয়া মাত্র ৭-৯ কেজি পোয়া আর ছোর মাছ পাইছি | তাও সব ছোট মাছ আর ১৮০টাকা কেজি দরে বেঁচিছি| কি আর করমু| মনডা বেশি ভালা নাই| তাই চুপচাপ বইসা আছি|
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মাছ ধরতে আসা শাহ আলম খাঁ, জাহাঙ্গীর ও লাল মিয়াসহ আর প্রায় শতাধিক জেলে হতাশার সুরে বলেন, ‘নৌকা নামাতে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে| কেই গরু-বাছুর বিক্রি করে আর কেউ ঋন নিয়ে জাল-নৌকা নামাইছি| তয় নদীতে কোথাও মাছ নাই| গেল বছর প্রতি খেয় ২০-৩৫ কেজি কইরা বিভিন্ন প্রজাতের মাছ পাইছি| এবার দুই খেও দিইয়া মাত্র ৫কেজি মাছ পাইছি|’ তারা আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে যেখানে জালভর্তি মাছ পেয়ে জেলেদের মুখে সব সময় হাসির ঝিলিক লেগে থাকার কথা, সেখানে অধিকাংশ জেলের মুখ ছিল মলিন| কারণ, নদীতে ইলিশ শিকারের আয়োজনে তাঁদের খরচের টাকাই উঠছে না| বাজারে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে অনেক ইলিশ ধরা পড়বে ভেবে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন কিনতে এসেছেন বাজারে| না পেয়ে তাঁরা হতাশ মুখে ফিরে যাচ্ছেন| অধিকাংশ মাছের আড়ৎ ঘরের সামনে ডালায় সামান্য কিছু মাছ দেখা যায়| ক্রেতাদের ভিড়ে মাছের বাজারও বেশ চড়া| মৎস্য ব্যবসায়ী বাঁশবাড়িয়া ঘাটে মিরাজ খাঁ বলেন, ‘অন্যান্য বছর নিষেধাজ্ঞার পড়েও অনেক ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ত| গত বছর অনেক মাছ বেচাকেনা করেছি| ভালো মাছ ধরা পড়বে এই আশায় অনেকে ধার দেনা করে জাল ও নৌকা নামিয়েছি| নদীতে নেমে মাছ না পেয়ে আমরা হতাশ হচ্ছি| অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নদীতে মাছের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম|