ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কেসিসি নগরীতে পঞ্চাশ হাজার বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি শুরু করেছে: প্রশাসক মঞ্জু তালায় খাল সংস্কার, পাইপ স্থাপন ও জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমের উদ্বোধন তালায় শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ তালা উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদকের মৃত্যু তালায় জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন খোকসায় দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ খুলনায় আঞ্চলিক বিপণন কর্মশালা অনুষ্ঠিত খোকসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও এজিএমের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে মানববন্ধন স্পেনের পর উরুগুয়েকেও রুখে দিল লড়াকু কেপ ভার্দে শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রথম ধাপের আলোচনা, গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি

দশমিনায় হারিয়ে যাচ্ছে দেশী প্রজাতির খেজুর গাছ

  • রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত সময় : ০৯:২৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ৪ পড়ছেন

দশমিনা(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চল থেকে দেশী প্রজাতির খেজুর গাছ কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে| শীতকালে গ্রামের সাধারন মানুষের জীবন ও জীবিকার এবং বাড়তি আয়ের অন্যতম উপাদান হিসাবে খেজুরের রস ছিল| সারি সারি রসের হাড়ি দেখে সাধারন মানুষ আনন্দে আত্নহারা হয়ে যেত| আর গ্রীম্মকালে দেশী প্রজাতির পাঁকা খেজুর সাধারন মানুষসহ পাখিরা খেয়ে আনন্দ পেত| কালের বিবর্তনে সেই দৃশ্য আর আনন্দ এখন আর আগের মতো চোখে পড়ছে না| গ্রাম বাংলার পথে প্রান্তরে,মাঠ-ঘাট,সড়কের পাশে,বাড়র আঙ্গিনা ও ফসলি জমির পাশে সারিবদ্ধভাবে খেজুর গাছ চোখে পড়তো| গ্রীম্মকালে গ্রামের শিশু কিশোররা পাঁকা খেজুর কুড়িয়ে খেয়ে আনন্দ করতো| সময়ের বিবর্তনে দেশী প্রজাতির খেজুর গাছ এখন বিলুপ্তির পথে রয়েছে| বর্তমানে নতুন প্রজন্ম দেশী খেজুরের ¯^াদ পাচ্ছে না|
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এখন আর আগের মত খেজুর গাছ চোখে পড়ে না| গ্রামের রাস্তার দুই পাশে সারি সারি খেজুর গাছ এখন আর নেই| আবাদি কিংবা অনাবাদি জমি ও বসতঘরের আশেপাশে খেজুর গাছ থাকলেও মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে কেটে ফেলেছে| অনেকে গাছ কেটে জা¦লানী হিসাবে বা টাকার জন্য অল্প দামে বিক্রি করে দিয়েছে| ফলে কালের ক্রমে ধীরে ধীরে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে গেছে| বানিজ্যিক ভাবে এই গাছটি কেউ রোপন করছে না| এই গাছ রাস্তা,বসতঘর,আবাদি কিংবা অনাবাদি জমির আশেপাশে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে থাকে| প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে গ্রামাঞ্চলে সারি সারি খেজুর গাছ ছিল| গ্রামের গাছিরা কুয়াশার চাদরে ঢাকা শীতের ভোরে খেজুরের রস সংগ্রহে নেমে পড়তো| এখন আর এই দৃশ্য চোখে পড়ে না|
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রতি বছর শীতের আমেজ শুরু হওয়ার সাথে সাথে খেজুর গাছ কাটতে গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়তো| গাছ কমে যাওয়ায় এখন আর আগের মত কেউ গাছ কাটছে না| ফলে গাছিদের রস সংগ্রহে খুব কম দেখা যাচ্ছে| ঘন কুয়াশায় পড়ে খেজুর রসের মন মাতানো সুমিষ্ট ঘ্রান আর দেখা মিলছে না| গাছ কমে যাওয়ায় গ্রাম বাংলার দেশী খেজুর এখন আর আগের মত পাওয়া যায় না| পর্যাপ্ত গাছ না থাকায় খেজুরের পরিমান কমে গেছে| ফলে মুখরোচক খেজুরের রস ও খেজুরসহ দেশী প্রজাতির খেজুর গাছ সময়ের বিবর্তনে বিলুপ্ত হতে চলছে| দশমিনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক গণমাধ্যমকর্মী নেছার উদ্দিন আহম্মেদ বলেন,দেশী প্রজাতির গাছ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দিন দিন কমে যাচ্ছে| জলবায়ু পরিবর্তন,গাছ কেটে ফেলার কারনে নতুন করে কেউ খেজুর গাছ রোপন করছে না| ফলে গ্রামীন ঐতিহ্যর অংশ দেশী খেজুর গাছ হারিয়ে যাবার আশংকায় রয়েছে| দেশী ফল ও গ্রামীন ঐতিহ্যসহ জীব বৈচিত্র সংরক্ষনে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পরিবেশ বান্ধব এই গাছ বেশী করে রোপন করা দরকার| দেশী খেজুর গাছ সংরক্ষনে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া হলে আগামী প্রজন্মের কাছে গাছটি শুধুই স্মৃতির পাতায় অংশ হয়ে থাকবে|

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

rington bd

জনপ্রিয়

কেসিসি নগরীতে পঞ্চাশ হাজার বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি শুরু করেছে: প্রশাসক মঞ্জু

দশমিনায় হারিয়ে যাচ্ছে দেশী প্রজাতির খেজুর গাছ

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

দশমিনা(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চল থেকে দেশী প্রজাতির খেজুর গাছ কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে| শীতকালে গ্রামের সাধারন মানুষের জীবন ও জীবিকার এবং বাড়তি আয়ের অন্যতম উপাদান হিসাবে খেজুরের রস ছিল| সারি সারি রসের হাড়ি দেখে সাধারন মানুষ আনন্দে আত্নহারা হয়ে যেত| আর গ্রীম্মকালে দেশী প্রজাতির পাঁকা খেজুর সাধারন মানুষসহ পাখিরা খেয়ে আনন্দ পেত| কালের বিবর্তনে সেই দৃশ্য আর আনন্দ এখন আর আগের মতো চোখে পড়ছে না| গ্রাম বাংলার পথে প্রান্তরে,মাঠ-ঘাট,সড়কের পাশে,বাড়র আঙ্গিনা ও ফসলি জমির পাশে সারিবদ্ধভাবে খেজুর গাছ চোখে পড়তো| গ্রীম্মকালে গ্রামের শিশু কিশোররা পাঁকা খেজুর কুড়িয়ে খেয়ে আনন্দ করতো| সময়ের বিবর্তনে দেশী প্রজাতির খেজুর গাছ এখন বিলুপ্তির পথে রয়েছে| বর্তমানে নতুন প্রজন্ম দেশী খেজুরের ¯^াদ পাচ্ছে না|
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এখন আর আগের মত খেজুর গাছ চোখে পড়ে না| গ্রামের রাস্তার দুই পাশে সারি সারি খেজুর গাছ এখন আর নেই| আবাদি কিংবা অনাবাদি জমি ও বসতঘরের আশেপাশে খেজুর গাছ থাকলেও মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে কেটে ফেলেছে| অনেকে গাছ কেটে জা¦লানী হিসাবে বা টাকার জন্য অল্প দামে বিক্রি করে দিয়েছে| ফলে কালের ক্রমে ধীরে ধীরে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে গেছে| বানিজ্যিক ভাবে এই গাছটি কেউ রোপন করছে না| এই গাছ রাস্তা,বসতঘর,আবাদি কিংবা অনাবাদি জমির আশেপাশে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে থাকে| প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে গ্রামাঞ্চলে সারি সারি খেজুর গাছ ছিল| গ্রামের গাছিরা কুয়াশার চাদরে ঢাকা শীতের ভোরে খেজুরের রস সংগ্রহে নেমে পড়তো| এখন আর এই দৃশ্য চোখে পড়ে না|
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রতি বছর শীতের আমেজ শুরু হওয়ার সাথে সাথে খেজুর গাছ কাটতে গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়তো| গাছ কমে যাওয়ায় এখন আর আগের মত কেউ গাছ কাটছে না| ফলে গাছিদের রস সংগ্রহে খুব কম দেখা যাচ্ছে| ঘন কুয়াশায় পড়ে খেজুর রসের মন মাতানো সুমিষ্ট ঘ্রান আর দেখা মিলছে না| গাছ কমে যাওয়ায় গ্রাম বাংলার দেশী খেজুর এখন আর আগের মত পাওয়া যায় না| পর্যাপ্ত গাছ না থাকায় খেজুরের পরিমান কমে গেছে| ফলে মুখরোচক খেজুরের রস ও খেজুরসহ দেশী প্রজাতির খেজুর গাছ সময়ের বিবর্তনে বিলুপ্ত হতে চলছে| দশমিনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক গণমাধ্যমকর্মী নেছার উদ্দিন আহম্মেদ বলেন,দেশী প্রজাতির গাছ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দিন দিন কমে যাচ্ছে| জলবায়ু পরিবর্তন,গাছ কেটে ফেলার কারনে নতুন করে কেউ খেজুর গাছ রোপন করছে না| ফলে গ্রামীন ঐতিহ্যর অংশ দেশী খেজুর গাছ হারিয়ে যাবার আশংকায় রয়েছে| দেশী ফল ও গ্রামীন ঐতিহ্যসহ জীব বৈচিত্র সংরক্ষনে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পরিবেশ বান্ধব এই গাছ বেশী করে রোপন করা দরকার| দেশী খেজুর গাছ সংরক্ষনে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া হলে আগামী প্রজন্মের কাছে গাছটি শুধুই স্মৃতির পাতায় অংশ হয়ে থাকবে|