ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গ্রেপ্তার ১৮

আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে হামলা

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় গ্রেপ্তার এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার এসআই ওমর ফারুক বলেন, ‘বেআইনি সমাবেশ ও দাঙ্গা, অনধিকার প্রবেশ ও ক্ষতিসাধন, সরকারি কাজে বাধা ও হামলা, গুরুতর অপরাধ ও হুমকির অভিযোগে তিনি মামলা করেছেন। মামলায় ৪৩ জন এজাহারনামীও আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও মামলায় আরো ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। আটকদেরকে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। থানার হাজতে থাকার সময় তিনি নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পুলিশের দাবি। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিকেলে কয়েক শ মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এসময় থানায় ভাঙচুর করা হয় এবং কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

এ ঘটনায় পুলিশের ছয় সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন- কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, ‘হামলার পর থেকেই থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত ১০ নারীসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এসআই ওমর ফারুক বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতেই মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের আদালতে উপস্থাপনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। হামলায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘থানায় হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এজাহারনামীয় আট জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার দুপুরে বরিশাল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

গ্রেপ্তার ১৮

আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে হামলা

প্রকাশিত সময় ০৩:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় গ্রেপ্তার এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার এসআই ওমর ফারুক বলেন, ‘বেআইনি সমাবেশ ও দাঙ্গা, অনধিকার প্রবেশ ও ক্ষতিসাধন, সরকারি কাজে বাধা ও হামলা, গুরুতর অপরাধ ও হুমকির অভিযোগে তিনি মামলা করেছেন। মামলায় ৪৩ জন এজাহারনামীও আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও মামলায় আরো ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। আটকদেরকে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। থানার হাজতে থাকার সময় তিনি নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পুলিশের দাবি। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিকেলে কয়েক শ মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এসময় থানায় ভাঙচুর করা হয় এবং কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

এ ঘটনায় পুলিশের ছয় সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন- কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, ‘হামলার পর থেকেই থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত ১০ নারীসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এসআই ওমর ফারুক বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতেই মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের আদালতে উপস্থাপনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। হামলায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘থানায় হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এজাহারনামীয় আট জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার দুপুরে বরিশাল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’