ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রাজাবুল

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রাম থেকে রাজাবুল ইসলাম রাজ (৩৯) নামে এক ব্যক্তি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) গভীর রাতে নিজ মালিকানাধীন ব্রয়লার মুরগির ফার্ম থেকে তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিখোঁজ রাজাবুল ইসলাম ওসমানপুর গ্রামের আইনাল হকের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতে বাড়ির পাশের নিজ ব্রয়লার মুরগির ফার্মে পাহারার জন্য অবস্থান করছিলেন রাজাবুল। রাত আনুমানিক ২টা ৩৩ মিনিটে তিনি তার স্ত্রীর মেসেঞ্জারে একটি বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় তিনি দ্রুত মেজো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ফার্মের কাছে আসতে এবং আশপাশে কেউ অবস্থান করছে কি না তা দেখতে বলেন।মেসেজে রাজাবুল আরও জানান, তার ভয় করছে এবং ফার্মের চারপাশে লোকজনের ফিসফিস আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। কিন্তু গভীর রাতে তার স্ত্রী ঘুমিয়ে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মেসেজটি তার নজরে পড়েনি।পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেসেঞ্জারের বার্তাগুলো দেখতে পান রাজাবুলের স্ত্রী। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ফার্মে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে রাজাবুলকে না পেয়ে তারা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।এ সময় ফার্মের ভেতর থেকেই রাজাবুলের মোবাইল ফোন ও পরিধেয় জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়। তবে সেখানে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আশপাশের এলাকা, রাস্তা, মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাননি।
রাজাবুলের এভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে স্ত্রীর মেসেঞ্জারে তার পাঠানো বার্তা এবং সেখানে ‘ভয় লাগছে’ ও চারপাশে ‘ফিসফিস আওয়াজ’ শোনার কথা উল্লেখ থাকায় ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
পরিবারের দাবি, রাজাবুল স্বাভাবিকভাবে ফার্মে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে তার মোবাইল ফোন ও পরনের পোশাক ফার্মে রেখে তিনি কোথায় গেলেন—এ প্রশ্নের কোনো উত্তর মিলছে না। তাকে কেউ নিয়ে গেছে কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন, তা নিয়েও পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।এদিকে, রাজাবুলের পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয় ওসমানপুর পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করেন। সেখানে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পেয়ে পরে তারা আলমডাঙ্গা থানায় গিয়ে নিখোঁজের বিষয়টি অবহিত করেন।নিখোঁজ রাজাবুল ইসলামকে দ্রুত খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তার পরিবার। একই সঙ্গে তার সন্ধানে প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।রাজাবুলের সন্ধান না মেলায় স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ক্রমেই বাড়ছে। তার অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রাজাবুল

প্রকাশিত সময় ০৪:৪০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রাম থেকে রাজাবুল ইসলাম রাজ (৩৯) নামে এক ব্যক্তি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) গভীর রাতে নিজ মালিকানাধীন ব্রয়লার মুরগির ফার্ম থেকে তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিখোঁজ রাজাবুল ইসলাম ওসমানপুর গ্রামের আইনাল হকের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতে বাড়ির পাশের নিজ ব্রয়লার মুরগির ফার্মে পাহারার জন্য অবস্থান করছিলেন রাজাবুল। রাত আনুমানিক ২টা ৩৩ মিনিটে তিনি তার স্ত্রীর মেসেঞ্জারে একটি বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় তিনি দ্রুত মেজো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ফার্মের কাছে আসতে এবং আশপাশে কেউ অবস্থান করছে কি না তা দেখতে বলেন।মেসেজে রাজাবুল আরও জানান, তার ভয় করছে এবং ফার্মের চারপাশে লোকজনের ফিসফিস আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। কিন্তু গভীর রাতে তার স্ত্রী ঘুমিয়ে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মেসেজটি তার নজরে পড়েনি।পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেসেঞ্জারের বার্তাগুলো দেখতে পান রাজাবুলের স্ত্রী। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ফার্মে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে রাজাবুলকে না পেয়ে তারা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।এ সময় ফার্মের ভেতর থেকেই রাজাবুলের মোবাইল ফোন ও পরিধেয় জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়। তবে সেখানে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আশপাশের এলাকা, রাস্তা, মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাননি।
রাজাবুলের এভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে স্ত্রীর মেসেঞ্জারে তার পাঠানো বার্তা এবং সেখানে ‘ভয় লাগছে’ ও চারপাশে ‘ফিসফিস আওয়াজ’ শোনার কথা উল্লেখ থাকায় ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
পরিবারের দাবি, রাজাবুল স্বাভাবিকভাবে ফার্মে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে তার মোবাইল ফোন ও পরনের পোশাক ফার্মে রেখে তিনি কোথায় গেলেন—এ প্রশ্নের কোনো উত্তর মিলছে না। তাকে কেউ নিয়ে গেছে কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন, তা নিয়েও পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।এদিকে, রাজাবুলের পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয় ওসমানপুর পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করেন। সেখানে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পেয়ে পরে তারা আলমডাঙ্গা থানায় গিয়ে নিখোঁজের বিষয়টি অবহিত করেন।নিখোঁজ রাজাবুল ইসলামকে দ্রুত খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তার পরিবার। একই সঙ্গে তার সন্ধানে প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।রাজাবুলের সন্ধান না মেলায় স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ক্রমেই বাড়ছে। তার অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।