ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও অর্থনীতি এগিয়ে যাবে : ভারতের হাইকমিশনার

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই স্থায়ী সমাধানের পথ। এই নির্ভরশীলতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চায় ভারত।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ইন্টার-ডিপেনডেন্সি স্থায়ী সমাধান। এটা আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকবে, কিন্তু অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। অর্থনীতি যখন আগে চলে যায়, তখন রাজনীতি তার পেছনে পেছনে যায়।

তিনি বলেন, রাজনীতি ও অর্থনীতি দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে দুই দেশের সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি চায় শান্তি ও সমৃদ্ধি। দুই দেশেরই দায়িত্ব হলো জনগণের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটিই সার্বভৌম রাষ্ট্র। এখানে ছোট-বড় বলে কোনো বিষয় নেই। দুই দেশ নিজ নিজ স্বার্থ রক্ষা করে সম্পর্ককে এগিয়ে নেবে। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভারতের ‘কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিস (সিআইআই)’ থেকে সম্প্রতি একটি বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গেও তাদের বৈঠক হয়েছে। দুই দেশের অর্থনীতিতে বড় অংশের অবদান রাখে এমন ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভালো রাস্তা ও বিদ্যুৎ চায়। এসব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ‘বিজনেস টু বিজনেস’ সম্পর্ক বাড়াতে হবে। এ জন্য দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক ইস্যু থাকবে। তবে এর পাশাপাশি মানুষের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিও নিশ্চিত করতে হবে। দুই দেশের তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতের মূল শক্তি। তাদের সক্ষমতা, জ্ঞান ও আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে দুই দেশকে কাজ করতে হবে।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ অর্থনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে দুই দেশের ভোক্তারা প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য ও সেবা পাওয়ার সুযোগ পান।

যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক উৎপাদনে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ভারত জিপার, মেশিনারি ও পোশাকের বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করতে পারে। দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে উৎপাদনে গেলে ‘ইন্দো-বাংলা’ বা ‘বাংলাদেশ-ভারত’ যৌথ উদ্যোগের পণ্য তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে যাচ্ছে। এসব পোশাকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা দেখলে তিনি গর্ববোধ করেন। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা উচিত।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, রাজনৈতিক সম্পর্ক তার নিজস্ব গতিতে চলবে, আর ব্যবসা-বাণিজ্য মানুষের প্রয়োজন পূরণে কাজ করবে। দুই দেশের জনগণের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রাণবন্ত ও স্বাধীন দেশ, ভারতও স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। কোনো দেশই বড় বা ছোট নয়। দুই দেশের জনগণের জন্য কাজ করাই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও অর্থনীতি এগিয়ে যাবে : ভারতের হাইকমিশনার

প্রকাশিত সময় ০৫:২২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই স্থায়ী সমাধানের পথ। এই নির্ভরশীলতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চায় ভারত।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ইন্টার-ডিপেনডেন্সি স্থায়ী সমাধান। এটা আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকবে, কিন্তু অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। অর্থনীতি যখন আগে চলে যায়, তখন রাজনীতি তার পেছনে পেছনে যায়।

তিনি বলেন, রাজনীতি ও অর্থনীতি দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে দুই দেশের সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি চায় শান্তি ও সমৃদ্ধি। দুই দেশেরই দায়িত্ব হলো জনগণের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটিই সার্বভৌম রাষ্ট্র। এখানে ছোট-বড় বলে কোনো বিষয় নেই। দুই দেশ নিজ নিজ স্বার্থ রক্ষা করে সম্পর্ককে এগিয়ে নেবে। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভারতের ‘কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিস (সিআইআই)’ থেকে সম্প্রতি একটি বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গেও তাদের বৈঠক হয়েছে। দুই দেশের অর্থনীতিতে বড় অংশের অবদান রাখে এমন ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভালো রাস্তা ও বিদ্যুৎ চায়। এসব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ‘বিজনেস টু বিজনেস’ সম্পর্ক বাড়াতে হবে। এ জন্য দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক ইস্যু থাকবে। তবে এর পাশাপাশি মানুষের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিও নিশ্চিত করতে হবে। দুই দেশের তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতের মূল শক্তি। তাদের সক্ষমতা, জ্ঞান ও আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে দুই দেশকে কাজ করতে হবে।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ অর্থনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে দুই দেশের ভোক্তারা প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য ও সেবা পাওয়ার সুযোগ পান।

যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক উৎপাদনে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ভারত জিপার, মেশিনারি ও পোশাকের বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করতে পারে। দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে উৎপাদনে গেলে ‘ইন্দো-বাংলা’ বা ‘বাংলাদেশ-ভারত’ যৌথ উদ্যোগের পণ্য তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে যাচ্ছে। এসব পোশাকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা দেখলে তিনি গর্ববোধ করেন। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা উচিত।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, রাজনৈতিক সম্পর্ক তার নিজস্ব গতিতে চলবে, আর ব্যবসা-বাণিজ্য মানুষের প্রয়োজন পূরণে কাজ করবে। দুই দেশের জনগণের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রাণবন্ত ও স্বাধীন দেশ, ভারতও স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। কোনো দেশই বড় বা ছোট নয়। দুই দেশের জনগণের জন্য কাজ করাই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।