ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনার আলোচিত সন্ত্রাসী আরমান গ্রেফতার

খুলনার আলোচিত সন্ত্রাসী আরমান হোসেন দিপুকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। তিনি ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান এবং শুটার আরমান নামে পরিচিত।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আরমান খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকার বাসিন্দা মো. আসাদুজ্জামানের ছেলে।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) র‌্যাব-৬ এর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন উপ-অধিনায়ক মেজর নাজমুল ইসলাম।

মেজর নাজমুল জানান, খুলনার আড়ংঘাটা এলাকায় আরমান দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। পরে সে নিজস্ব একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে। গ্রুপটিতে ৮ থেকে ১০ জন সদস্য রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তার নেতৃত্বাধীন আরমান বাহিনী মহানগরীর দৌলতপুর, খালিশপুর, আড়ংঘাটা, দিঘলিয়া ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্ত্রের মহড়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

তিনি জানান, বাহিনীটি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে চাঁদা দাবি করত। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গত ১৭ জুন দৌলতপুরে একটি মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা আরমান স্বীকার করেছে।

নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, আরমানের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে মামুন মোল্যা হত্যা, ২০২২ সালে মারজান মুন্না হত্যা, চলতি বছর ঘাউরা রাজিব ও যুবদল নেতা রাশু হত্যা মামলা অন্যতম। এছাড়া কালা রানা ও মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা মামলাসহ কয়েকটি মামলায় তিনি সন্দেহভাজন আসামি। গ্রেফতারের পর আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ও সহযোগীদের ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি শটগান এবং ১২ রাউন্ড শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক পরিচিতি

জনপ্রিয়

খুলনার আলোচিত সন্ত্রাসী আরমান গ্রেফতার

প্রকাশিত সময় ১২:২৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনার আলোচিত সন্ত্রাসী আরমান হোসেন দিপুকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। তিনি ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান এবং শুটার আরমান নামে পরিচিত।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আরমান খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকার বাসিন্দা মো. আসাদুজ্জামানের ছেলে।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) র‌্যাব-৬ এর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন উপ-অধিনায়ক মেজর নাজমুল ইসলাম।

মেজর নাজমুল জানান, খুলনার আড়ংঘাটা এলাকায় আরমান দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। পরে সে নিজস্ব একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে। গ্রুপটিতে ৮ থেকে ১০ জন সদস্য রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তার নেতৃত্বাধীন আরমান বাহিনী মহানগরীর দৌলতপুর, খালিশপুর, আড়ংঘাটা, দিঘলিয়া ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্ত্রের মহড়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

তিনি জানান, বাহিনীটি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে চাঁদা দাবি করত। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গত ১৭ জুন দৌলতপুরে একটি মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা আরমান স্বীকার করেছে।

নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, আরমানের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে মামুন মোল্যা হত্যা, ২০২২ সালে মারজান মুন্না হত্যা, চলতি বছর ঘাউরা রাজিব ও যুবদল নেতা রাশু হত্যা মামলা অন্যতম। এছাড়া কালা রানা ও মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা মামলাসহ কয়েকটি মামলায় তিনি সন্দেহভাজন আসামি। গ্রেফতারের পর আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ও সহযোগীদের ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি শটগান এবং ১২ রাউন্ড শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়।