ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থাভাবে কেউ চিকিৎসা বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে যেতে হবে না, কিংবা কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না।

শনিবার (১৫আগস্ট) রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ‘ভবন-২’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর এই বিশেষায়িত হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সময়ের প্রয়োজনে আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে হাসপাতালটি আজ বড় রূপ ধারণ করেছে।

গ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছে চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীকে যাতে সাধারণ চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয়, সেজন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে।

এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে জানিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।

শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্থ আগামী’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় ২০০ শয্যা বিশিষ্ট ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে। আগামী অক্টোবর মাসেই হাসপাতালগুলো একযোগে চালু করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক আচরণের তাগিদ দিয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয় ও মানসিক কষ্ট বুঝে চিকিৎসকদের সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ সেবার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

একই সঙ্গে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন কিংবা রোগীরা যদি চিকিৎসকদের ওপর আস্থা রাখতে না পারেন, তবে কেবল হাসপাতাল ভবনের উন্নয়ন করে বিদেশে চিকিৎসাকেন্দ্রিক নির্ভরতা বন্ধ করা যাবে না।

জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গঠন কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং একটি বাস্তব ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ধারাবাহিক পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

অর্থাভাবে কেউ চিকিৎসা বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত সময় ০১:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে যেতে হবে না, কিংবা কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না।

শনিবার (১৫আগস্ট) রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ‘ভবন-২’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর এই বিশেষায়িত হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সময়ের প্রয়োজনে আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে হাসপাতালটি আজ বড় রূপ ধারণ করেছে।

গ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছে চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীকে যাতে সাধারণ চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয়, সেজন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে।

এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে জানিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।

শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্থ আগামী’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় ২০০ শয্যা বিশিষ্ট ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে। আগামী অক্টোবর মাসেই হাসপাতালগুলো একযোগে চালু করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক আচরণের তাগিদ দিয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয় ও মানসিক কষ্ট বুঝে চিকিৎসকদের সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ সেবার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

একই সঙ্গে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন কিংবা রোগীরা যদি চিকিৎসকদের ওপর আস্থা রাখতে না পারেন, তবে কেবল হাসপাতাল ভবনের উন্নয়ন করে বিদেশে চিকিৎসাকেন্দ্রিক নির্ভরতা বন্ধ করা যাবে না।

জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গঠন কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং একটি বাস্তব ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ধারাবাহিক পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।