ঢাকা ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ে অনেকের মরদেহ হাসপাতাল থেকে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে নিহত অনেকের মরদেহ পাশের একটি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের তৎকালীন কর্তৃপক্ষ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান–সংলগ্ন জুলাই শহীদদের গণকবর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে ঢাকার কাছের একটি নদীতে একটি হাসপাতাল থেকে অনেক মরদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তা শনাক্তের কাজ চলছে। তদন্ত শেষ হলে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে যেসব মরদেহের তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলোর পরিচয়ও শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, রায়েরবাজারের গণকবরে মোট ১১৪টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত আটজন জুলাই শহীদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গণকবর পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত ৮৩৪ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, রায়েরবাজার ছাড়াও জুরাইন, মাতুয়াইল, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের গণকবর পরিদর্শন করা হবে। পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলবে।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

জুলাইয়ে অনেকের মরদেহ হাসপাতাল থেকে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশিত সময় ০৪:১৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে নিহত অনেকের মরদেহ পাশের একটি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের তৎকালীন কর্তৃপক্ষ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান–সংলগ্ন জুলাই শহীদদের গণকবর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে ঢাকার কাছের একটি নদীতে একটি হাসপাতাল থেকে অনেক মরদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তা শনাক্তের কাজ চলছে। তদন্ত শেষ হলে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে যেসব মরদেহের তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলোর পরিচয়ও শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, রায়েরবাজারের গণকবরে মোট ১১৪টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত আটজন জুলাই শহীদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গণকবর পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত ৮৩৪ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, রায়েরবাজার ছাড়াও জুরাইন, মাতুয়াইল, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের গণকবর পরিদর্শন করা হবে। পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলবে।