পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে গ্রাম বাংলা থেকে তালগাছসহ বাবুই পাখি হারিয়ে যাচ্ছে| তালগাছে বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা এখন আর নেই| এক সময়ে সড়ক ও বসতঘরের আশেপাশে তালগাছের পাতায় পাতায় দৃষ্টিনন্দন বাবুই পাখির বাসা দেখা যেত| গ্রাম বাংলার চিরচেনা নিপুন বাসা ˆতরির কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা কালের বিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন আর আগের মতো চোখে পড়ছে না|
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলে এখন আর আগের মত তালগাছসহ বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়ে না| গ্রামের রাস্তার দুই পাশে সারি সারি তালগাছ এখন আর নেই| আবাদি কিংবা অনাবাদি জমি ও বসতঘরের আশেপাশে তালগাছ থাকলেও মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে কেটে ফেলেছে| অনেকে গাছ কেটে জা¦লানী হিসাবে বা টাকার জন্য অল্প দামে বিক্রি করে দিয়েছে| ফলে কালের ক্রমে ধীরে ধীরে তালগাছের সংখ্যা কমে গেছে| বানিজ্যিক ভাবে এই গাছটি কেউ রোপন করছে না| এই গাছ রাস্তা,বসতঘর,আবাদি কিংবা অনাবাদি জমির আশেপাশে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে থাকে| প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে গ্রামাঞ্চলে সারি সারি তালগাছ ছিল| গ্রীম্মকালে গ্রামের গাছিরা দুই বেলা গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তালের পাটালি ও গুড় তেরি করতো| এখন এই দৃশ্য কদাচিৎ দেখা যায়| উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রতি বছর গ্রীম্মকাল শুরু হওয়ার সাথে সাথে তালগাছ কাটতে গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে| গাছ কমে যাওয়ায় এখন আর আগের মত কেউ গাছ কাটছে না| ফলে গাছিদের রস সংগ্রহে খুব কম দেখা যাচ্ছে| তালের রসের মন মাতানো সুমিষ্ট ঘ্রান আর দেখা মিলছে না| গাছ কমে যাওয়ায় গ্রাম বাংলায় তালগাছ এখন আর আগের মত পাওয়া যায় না| পর্যাপ্ত গাছ না থাকায় তালের শাস কমে গেছে| ফলে মুখরোচক তালের রস ও পাটালি গুড়সহ দেশী প্রজাতির তালগাছ সময়ের বিবর্তনে বিলুপ্ত হতে চলছে| ঐতিহ্য ধরে রাখা,বজ্রনিরোধক ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পরিবেশ বান্ধব তালগাছ বেশী করে রোপন করা প্রয়োজন| পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাবুই পাখির আশ্রয়স্থল ˆতরি করে দেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে|
শিরোনাম :
হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি
দশমিনায় কমেছে তালগাছ
-
দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি - প্রকাশিত সময় ১০:২২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
- ৪১ পড়েছেন
Tag :
জনপ্রিয়
















