ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দশমিনায় গ্রীস্মকালীন তরমুজ চাষে ভাল ফলন

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ভাগ্য পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আনতে তরমুজ চাষে কৃষকেরা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেছে। গ্রীস্মকালীন মৌসুমে শ্রাবন মাস তরমুজ চাষের উপযোগি সময়। গ্রীস্মকালীন ফলের মধ্যে তরমুজ একটি জনপ্রিয় ও সুসাধু ফল। বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আয়রন, ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াস সহ নানা ভেষজগুন। কৃষকরা তরমুজের বাম্পার ফলনের জন্য ক্ষেত প্রস্তুতিতে কীটনাশক, ছত্রাকনাশক, ভিটামিন সহ নানা রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন। গত মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাম্পার ফলন পাওয়ার আশায় এই বছর দ্বিগুন জমিতে তরমুজ চাষের জন্য ক্ষেত প্রস্তুত করছে। কৃষকদের জমিতে ইতিমধ্যে তরমুজের চারা দেখা গেছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জনা যায়, গত বছর কম জমিতে তরমুজ চাষ করা হলেও এই বছর উপজেলায় বেশ কয়েক একর জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। তরমুজ চাষে চাষিদের আগ্রহ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা সদর এলাকার সফল তরমুজ চাষি মো.মাসুদ বলেন গত বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এই বছর দ্বিগুন জমি তরমুজ চাষের জন্য প্রস্তুত করছি। গত বছর ২৫ একর জমি চাষ করে লাভ করেছি ২৫ লক্ষ টাকা। এই বছর চর ও এলাকায় নিজ জমি ও একশোনা জমি কিনে চাষ করছি তরমুজ। তিনি বলেন কৃষি বিভাগের কাছ থেকে শিখে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো তরমুজ চাষ করছি। তরমুজ চাষে ড্রাগন ও বিগ ফ্যামিলি বীজ ব্যবহার করছি। আশা করছি আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এই বছর গত বছরের চেয়ে বিশি ফলন ও লাভ হবে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোলখালী এলাকার তরমুজ চাষি মাহাবুল সরদার বলেন, আমাদের এলাকায় ভোলা জেলার চরফ্যাশন এলাকার কৃষকরা এসে আমাদের এলাকায় জমি বন্ধক নিয়ে তরমুজ চাষ করে। তাদের সাথে থেকে আমি তরমুজ চাষ করা পদ্ধতি শিখি। সেই থেকে প্রায় টানা চতুর্থ বারের মতো তরমুজ চাষ করছি। তরমুজ চাষে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফলন আসা পর্যন্ত নিজ থেকে কিটনাশক, ভিটামিন, ছত্রাকনাশক, রাসয়নিক সার ব্যবহার করে থাকি। আমার ক্ষেতের তরমুজ ৬-৮ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। উপজেলা সহ বিভিন্ন বিভাগে তরমুজ বেচা-বিক্রির জন্য বাজারজাত করে থাকি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ বছর ভালো ফলন আশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো জাফর আহমেদ জানান, উপজেলায় এই বছর অর্ধশত একর জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে সার ও কিটনাশক দেয়া হয়। কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তাগন কৃষকদের সাথে থেকে সকল প্রকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এই বছর তরমুজ চাষিরা বাম্পার ফলন পাবেন এবং লাভও বেশি হবে।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

দশমিনায় গ্রীস্মকালীন তরমুজ চাষে ভাল ফলন

প্রকাশিত সময় ০২:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ভাগ্য পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আনতে তরমুজ চাষে কৃষকেরা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেছে। গ্রীস্মকালীন মৌসুমে শ্রাবন মাস তরমুজ চাষের উপযোগি সময়। গ্রীস্মকালীন ফলের মধ্যে তরমুজ একটি জনপ্রিয় ও সুসাধু ফল। বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আয়রন, ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াস সহ নানা ভেষজগুন। কৃষকরা তরমুজের বাম্পার ফলনের জন্য ক্ষেত প্রস্তুতিতে কীটনাশক, ছত্রাকনাশক, ভিটামিন সহ নানা রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন। গত মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাম্পার ফলন পাওয়ার আশায় এই বছর দ্বিগুন জমিতে তরমুজ চাষের জন্য ক্ষেত প্রস্তুত করছে। কৃষকদের জমিতে ইতিমধ্যে তরমুজের চারা দেখা গেছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জনা যায়, গত বছর কম জমিতে তরমুজ চাষ করা হলেও এই বছর উপজেলায় বেশ কয়েক একর জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। তরমুজ চাষে চাষিদের আগ্রহ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা সদর এলাকার সফল তরমুজ চাষি মো.মাসুদ বলেন গত বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এই বছর দ্বিগুন জমি তরমুজ চাষের জন্য প্রস্তুত করছি। গত বছর ২৫ একর জমি চাষ করে লাভ করেছি ২৫ লক্ষ টাকা। এই বছর চর ও এলাকায় নিজ জমি ও একশোনা জমি কিনে চাষ করছি তরমুজ। তিনি বলেন কৃষি বিভাগের কাছ থেকে শিখে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো তরমুজ চাষ করছি। তরমুজ চাষে ড্রাগন ও বিগ ফ্যামিলি বীজ ব্যবহার করছি। আশা করছি আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এই বছর গত বছরের চেয়ে বিশি ফলন ও লাভ হবে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোলখালী এলাকার তরমুজ চাষি মাহাবুল সরদার বলেন, আমাদের এলাকায় ভোলা জেলার চরফ্যাশন এলাকার কৃষকরা এসে আমাদের এলাকায় জমি বন্ধক নিয়ে তরমুজ চাষ করে। তাদের সাথে থেকে আমি তরমুজ চাষ করা পদ্ধতি শিখি। সেই থেকে প্রায় টানা চতুর্থ বারের মতো তরমুজ চাষ করছি। তরমুজ চাষে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফলন আসা পর্যন্ত নিজ থেকে কিটনাশক, ভিটামিন, ছত্রাকনাশক, রাসয়নিক সার ব্যবহার করে থাকি। আমার ক্ষেতের তরমুজ ৬-৮ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। উপজেলা সহ বিভিন্ন বিভাগে তরমুজ বেচা-বিক্রির জন্য বাজারজাত করে থাকি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ বছর ভালো ফলন আশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো জাফর আহমেদ জানান, উপজেলায় এই বছর অর্ধশত একর জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে সার ও কিটনাশক দেয়া হয়। কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তাগন কৃষকদের সাথে থেকে সকল প্রকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এই বছর তরমুজ চাষিরা বাম্পার ফলন পাবেন এবং লাভও বেশি হবে।