ঢাকা ০৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দশমিনায় নদীতে মাছ না থাকায় জেলেরা হতাশ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের হাট,বাজার ও মোকামগুলোতে দেশী প্রজাতির বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এখন দুস্প্রাপ্য হয়ে গেছে| উপজেলার গ্রামাঞ্চলের নদী-নালা,খাল-বিল,পুকুর,জলাশয়,ডোবা ও বিল-ঝিলে নির্বিযেœ ছোট-বড় মাছ ধরার মহোৎসব চলছে| বর্ষা মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ ডিম ছাড়ার আগেই জেলেদের জালে ধরা পড়ছে| ফলে মাছের বংশ বিস্তার হচ্ছে না| এক শ্রেনীর অসাধু জেলেরা মাছ ধরার জন্য বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে অবাধে মাছ শিকার করছে| যার কারনে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেশী প্রজাতির মাছ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে| এদিকে উপজেলার প্রধান ২টি নদী তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে জেলেরা জাল ফেলে কোন মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে তীরে ফিরে আসছে|
জানা গেছে, উপজেলার মাছের ক্ষেত্র হিসাবে পরিচিত আলীপুরা, বাঁশবাড়িয়া, রনগোপালদী, চরবোরহান,দশমিনা,বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়ন সহ চরাঞ্চল এখন মাছ শূন্য হয়ে গেছে| উল্লেখিত এলাকায় বোয়াল, মাগুর, শিং, কৈ, টেংরা, শোল, টাকি, পুটি, গজার, চাপিলা, খৈইলশা, পাবদা, আইড়, চিংড়ি, মলা, বাইন, বেলে সহ অর্ধ শতাধিক প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্ত হবার পথে রয়েছে| বিশেষ করে নদীর মাছ হিসাবে পরিচিত পোয়া,ইলিশ,আইড়,রিটা যার দেখা এখন অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার| অত্র অঞ্চলের সোনার হরিণ হিসাবে পরিচিত ইলিশ মাছ যেন এখন সোনা হয়ে গেছে| এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা জানায়,নিষিদ্ধ ঘোষিত জালের অবাধ ব্যবহার,কৃষি জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার,বর্ষাকালে প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মা মাছ সহ পোনা নিধন,শুস্ক মৌসুমে মাছ ধরার প্রবনতা এবং মাছের বিচরন ক্ষেত্র কমে যাওয়া সহ প্রভৃতি কারনে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ফসল হিসাবে পরিচিত মৎস্য সম্পদ আজ বিলুপ্ত হতে চলছে| এছাড়া মাছের প্রজনন মৌসুম ও পোনা মাছের বৃদ্ধিকালীন সময় অবাধে ছোট-বড় মাছ ধরা এবং মৎস্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় মৎস্য সম্পদ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে|
উপজেলায় বিগত ২০ বছর আগে গ্রামাঞ্চলে সর্বত্র দেশী প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলেও এখন আর সেই অবস্থা নেই| উপজেলার হাট-বাজার গুলোতে চাষকৃত কার্প জাতীয় রুই,কাতলা,পাঙ্গাস,আফ্রিকান মাগুর,হাইব্রিড শিং,মাগুর এবং থাই পুটি,কৈ ও তেলাপিয়া সহ নানা ধরনের মাছ বিক্রি হচ্ছে| চাষকৃত মাছের কাছে দেশী প্রজাতির মাছ টিকতে না পেরে হারিয়ে গেচে| জেলেরা জানায়, দারিদ্রতার কারনে তারা মাছ শিকার করতে বাধ্য হচ্ছে| এই বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তর কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না| অভিজ্ঞ মহলের মতে সমšি^ত মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহন,কৃষি জমিতে ¯^ল্প মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ করা হলে জাতীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে| বিদেশী চাষকৃত মাছের কাছে দেশী প্রজাতির মাছ মার খেয়ে গেছে| এই অবস্থায় দেশী মাছ বিলুপ্তি হলে উপজেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক জেলে পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে| এদিকে উপজেলার প্রধান ২টি নদী তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে জেলেরা জাল ফেলে কাংখিত মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে তীরে ফিরে আসছে| ফলে বাজারগুলোতে দেশী প্রজাতির মাছ কমে গেছে|

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

দশমিনায় নদীতে মাছ না থাকায় জেলেরা হতাশ

প্রকাশিত সময় ১০:২৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের হাট,বাজার ও মোকামগুলোতে দেশী প্রজাতির বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এখন দুস্প্রাপ্য হয়ে গেছে| উপজেলার গ্রামাঞ্চলের নদী-নালা,খাল-বিল,পুকুর,জলাশয়,ডোবা ও বিল-ঝিলে নির্বিযেœ ছোট-বড় মাছ ধরার মহোৎসব চলছে| বর্ষা মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ ডিম ছাড়ার আগেই জেলেদের জালে ধরা পড়ছে| ফলে মাছের বংশ বিস্তার হচ্ছে না| এক শ্রেনীর অসাধু জেলেরা মাছ ধরার জন্য বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে অবাধে মাছ শিকার করছে| যার কারনে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেশী প্রজাতির মাছ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে| এদিকে উপজেলার প্রধান ২টি নদী তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে জেলেরা জাল ফেলে কোন মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে তীরে ফিরে আসছে|
জানা গেছে, উপজেলার মাছের ক্ষেত্র হিসাবে পরিচিত আলীপুরা, বাঁশবাড়িয়া, রনগোপালদী, চরবোরহান,দশমিনা,বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়ন সহ চরাঞ্চল এখন মাছ শূন্য হয়ে গেছে| উল্লেখিত এলাকায় বোয়াল, মাগুর, শিং, কৈ, টেংরা, শোল, টাকি, পুটি, গজার, চাপিলা, খৈইলশা, পাবদা, আইড়, চিংড়ি, মলা, বাইন, বেলে সহ অর্ধ শতাধিক প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্ত হবার পথে রয়েছে| বিশেষ করে নদীর মাছ হিসাবে পরিচিত পোয়া,ইলিশ,আইড়,রিটা যার দেখা এখন অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার| অত্র অঞ্চলের সোনার হরিণ হিসাবে পরিচিত ইলিশ মাছ যেন এখন সোনা হয়ে গেছে| এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা জানায়,নিষিদ্ধ ঘোষিত জালের অবাধ ব্যবহার,কৃষি জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার,বর্ষাকালে প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মা মাছ সহ পোনা নিধন,শুস্ক মৌসুমে মাছ ধরার প্রবনতা এবং মাছের বিচরন ক্ষেত্র কমে যাওয়া সহ প্রভৃতি কারনে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ফসল হিসাবে পরিচিত মৎস্য সম্পদ আজ বিলুপ্ত হতে চলছে| এছাড়া মাছের প্রজনন মৌসুম ও পোনা মাছের বৃদ্ধিকালীন সময় অবাধে ছোট-বড় মাছ ধরা এবং মৎস্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় মৎস্য সম্পদ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে|
উপজেলায় বিগত ২০ বছর আগে গ্রামাঞ্চলে সর্বত্র দেশী প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলেও এখন আর সেই অবস্থা নেই| উপজেলার হাট-বাজার গুলোতে চাষকৃত কার্প জাতীয় রুই,কাতলা,পাঙ্গাস,আফ্রিকান মাগুর,হাইব্রিড শিং,মাগুর এবং থাই পুটি,কৈ ও তেলাপিয়া সহ নানা ধরনের মাছ বিক্রি হচ্ছে| চাষকৃত মাছের কাছে দেশী প্রজাতির মাছ টিকতে না পেরে হারিয়ে গেচে| জেলেরা জানায়, দারিদ্রতার কারনে তারা মাছ শিকার করতে বাধ্য হচ্ছে| এই বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তর কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না| অভিজ্ঞ মহলের মতে সমšি^ত মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহন,কৃষি জমিতে ¯^ল্প মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ করা হলে জাতীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে| বিদেশী চাষকৃত মাছের কাছে দেশী প্রজাতির মাছ মার খেয়ে গেছে| এই অবস্থায় দেশী মাছ বিলুপ্তি হলে উপজেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক জেলে পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে| এদিকে উপজেলার প্রধান ২টি নদী তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে জেলেরা জাল ফেলে কাংখিত মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে তীরে ফিরে আসছে| ফলে বাজারগুলোতে দেশী প্রজাতির মাছ কমে গেছে|