ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান জোটের শীর্ষ নেতা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া। গণতন্ত্রের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক হওয়া উচিত।’

নাহিদ ইসলাম জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে তাদের প্রাথমিক পরামর্শ ছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। এরপর সেই আলোকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করা।

তিনি বলেন, ‘এতে ব্যক্তির চেয়ে প্রক্রিয়াটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠত। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে দলীয় বিষয়ে পরিণত করা হয়েছে।’

এ সময় জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষায় ১১ দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনীতি সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া উচিত।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা মনে করি যে সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া উচিত। তাহলে গণতন্ত্রের গতি এবং তার সুস্বাস্থ্য ফিরে আসবে।’

রাষ্ট্রপতির নাম ঘোষণার আগে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন ছাড়াও পারস্পরিক রাজনৈতিক সমঝোতা এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার। এ ছাড়া ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদও বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।

বৈঠকে আরও ছিলেন- এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাগপার রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

গত শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা জানায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া অলি আহমদ ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। এর অবস্থান ছিল চট্টগ্রামের ষোলশহরে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে ভারতে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার পর নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর জেড ফোর্সের অধীনে যুদ্ধ করেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্নেল পদে উন্নীত হয়ে অবসর নেন। পরে রাজনীতিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (বাংলাদেশ) এর প্রেসিডেন্ট।

জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করলে সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন কর্নেল অলি। এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি যোগাযোগমন্ত্রী হন।

দীর্ঘকাল বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকার পর ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন। যদিও পরে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে তার মতবিরোধ হয়। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে নির্বাচন করেন কর্নেল অলির দল।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি

প্রকাশিত সময় ০২:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান জোটের শীর্ষ নেতা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া। গণতন্ত্রের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক হওয়া উচিত।’

নাহিদ ইসলাম জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে তাদের প্রাথমিক পরামর্শ ছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। এরপর সেই আলোকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করা।

তিনি বলেন, ‘এতে ব্যক্তির চেয়ে প্রক্রিয়াটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠত। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে দলীয় বিষয়ে পরিণত করা হয়েছে।’

এ সময় জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষায় ১১ দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনীতি সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া উচিত।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা মনে করি যে সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া উচিত। তাহলে গণতন্ত্রের গতি এবং তার সুস্বাস্থ্য ফিরে আসবে।’

রাষ্ট্রপতির নাম ঘোষণার আগে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন ছাড়াও পারস্পরিক রাজনৈতিক সমঝোতা এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার। এ ছাড়া ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদও বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।

বৈঠকে আরও ছিলেন- এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাগপার রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

গত শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা জানায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া অলি আহমদ ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। এর অবস্থান ছিল চট্টগ্রামের ষোলশহরে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে ভারতে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার পর নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর জেড ফোর্সের অধীনে যুদ্ধ করেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্নেল পদে উন্নীত হয়ে অবসর নেন। পরে রাজনীতিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (বাংলাদেশ) এর প্রেসিডেন্ট।

জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করলে সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন কর্নেল অলি। এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি যোগাযোগমন্ত্রী হন।

দীর্ঘকাল বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকার পর ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন। যদিও পরে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে তার মতবিরোধ হয়। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে নির্বাচন করেন কর্নেল অলির দল।