মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন রূপ নিয়েছে। মার্কিন হামলার কড়া জবাব দিতে এবার কুয়েত ও ওমানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে ইরান। অন্যদিকে, নিজেদের আকাশসীমায় ইরানের ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে জর্ডান।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েতে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সফল হামলা চালিয়েছে। মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় একটি মিসাইল ডিফেন্স রাডার, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রাগার এবং দুটি ‘হিমারস’ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
আইআরজিসি বলেছে, সম্প্রতি ইরানের বেসামরিক স্থাপনায়—বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ ও রেলওয়ে নেটওয়ার্কে—মার্কিন হামলার সরাসরি প্রতিশোধ এটি। তাদের দাবি, ওই অঞ্চলে মার্কিন কর্মকাণ্ডের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল-গ্যাস উৎপাদন ও রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তাদের এই ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত থাকবে।
কুয়েতের ঘটনার পরপরই ওমানেও জোড়া মার্কিন রাডার ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, ওমানের ঘানেম অঞ্চলে একটি মার্কিন এয়ার কন্ট্রোল রাডার এবং হরমুজ প্রণালিতে একটি মেরিটাইম কন্ট্রোল রাডার ধ্বংস করেছে তারা। এটিকে ১৩তম হামলা উল্লেখ করে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি এখনও আইআরজিসি নৌবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
এদিকে, এই সংঘাতের উত্তাপের আঁচ লেগেছে জর্ডানেও। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। জর্ডানের রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পস দল দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিয়েছে। ফলে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 















