ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় মাদক ও জুয়াবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৬

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় মাদক ও জুয়াবিরোধী পৃথক অভিযানে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচার শেষে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন আদালত। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলমান মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই (নিঃ) মো. মিজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন।পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভোগাইল বগাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের উত্তর পাশ থেকে আব্দুল্লাহ (২৩) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে সাদা কাগজে মোড়ানো প্রায় ১ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ করে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেফতার দেখানো হয়।
একই রাতে উপজেলার ভোগাইল গ্রামের জব্বারুল ইসলামের চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে প্রকাশ্যে টাকার বিনিময়ে তাস দিয়ে জুয়া খেলার সময় পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন— মিলন মিয়া (৪২), আব্দুল করিম (৪৫), জব্বারুল ইসলাম (৩৫), মহিবুল ইসলাম (৩৫) ও জাহিদুল ইসলাম (৩৬)। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৮০ টাকা নগদ এবং এক সেট (৫২ পিস) তাস জব্দ করা হয়। পরে গ্রেফতার ছয়জনকে আদালতে হাজির করা হলে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ২য় আদালত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আব্দুল্লাহকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া Public Gambling Act, 1867 অনুযায়ী মিলন মিয়া, আব্দুল করিম, মহিবুল ইসলাম ও জাহিদুল ইসলামকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জুয়ার আসরের আয়োজক হিসেবে জব্বারুল ইসলামকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, জুয়া, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ জনগণকে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক পরিচিতি

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় মাদক ও জুয়াবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৬

প্রকাশিত সময় ১২:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় মাদক ও জুয়াবিরোধী পৃথক অভিযানে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচার শেষে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন আদালত। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলমান মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই (নিঃ) মো. মিজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন।পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভোগাইল বগাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের উত্তর পাশ থেকে আব্দুল্লাহ (২৩) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে সাদা কাগজে মোড়ানো প্রায় ১ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ করে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেফতার দেখানো হয়।
একই রাতে উপজেলার ভোগাইল গ্রামের জব্বারুল ইসলামের চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে প্রকাশ্যে টাকার বিনিময়ে তাস দিয়ে জুয়া খেলার সময় পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন— মিলন মিয়া (৪২), আব্দুল করিম (৪৫), জব্বারুল ইসলাম (৩৫), মহিবুল ইসলাম (৩৫) ও জাহিদুল ইসলাম (৩৬)। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৮০ টাকা নগদ এবং এক সেট (৫২ পিস) তাস জব্দ করা হয়। পরে গ্রেফতার ছয়জনকে আদালতে হাজির করা হলে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ২য় আদালত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আব্দুল্লাহকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া Public Gambling Act, 1867 অনুযায়ী মিলন মিয়া, আব্দুল করিম, মহিবুল ইসলাম ও জাহিদুল ইসলামকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জুয়ার আসরের আয়োজক হিসেবে জব্বারুল ইসলামকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, জুয়া, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ জনগণকে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।