ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দশমিনায় অবিরাম বর্ষন ও জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি’র প্রভাবে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ না থাকায় ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেছে। টানা বর্ষন ও জলাবদ্ধতার কারনে উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের চরঘুর্নি, পাতারচর, আউলিয়াপুর, দক্ষিণ রণগোপালদী, উত্তর রণগোপালদী, সদর ইউনিয়নের সবুজবাঁগ, হাজিরহাট, গোলখালী, কাটাখালী, চরহাদী, কাউয়ারচর, সৈয়দ জাফর, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়ীয়া গ্রাম,চরবাঁশবাড়ীয়া, চর সাইমুন, ঢনঢনিয়াসহ ১৬টি গ্রামের প্রায় ২২ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৮দিনের টানা ভারী প্রবল বর্ষনে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। উপজেলা সদরের সবুজবাগ এলাকায় অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারনে সড়ক তলিয়ে গেছে। ফলে এলাকার বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। উপজেলার নিচু এলাকার বাসিন্দাদের বসতঘরের উঠান,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়কে পানি জমে থাকায় মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় বাসিন্দারা নিত্যদিনের মতো কাজ করতে বের হতে পারছে না। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকাসহ নিচু এলাকার ফসলি জমিতে পানি থাকায় আমন ধানের চাষ ব্যাহত হওয়ায় আশংকা রয়েছে।
উপজেলার প্রধান ২টি নদী তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীতে পানি প্রবাহের চাপ বেড়ে যাওয়ায় নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপকূলসহ চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ না থাকার কারনে ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার কারনে কৃষকের চরম ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা সদরে পানি নিস্কাশনের জন্য কোন ড্রেন না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারনে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হবার কারনে পুকুর, ডোবা,জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। ফলে অনেক মাছ চাষী ক্ষতির আশংকা প্রকাশ করেছে। ভারী বর্ষন অব্যাহত থাকলে জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়ে যাবে। এছাড়াও উপজেলা সদর থেকে ১৪ কি:মি: দুরে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ রয়েছে চরবোরহান ইউনিয়ন। ঐ ইউনিয়নের চরবোরহান, দক্ষিণ চরশাহজালাল, উত্তর চরশাহজালালসহ ৯টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে পুকুরে মাছের ঘের তলিয়ে কোটি টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। চরবোরহান ইউনিয়ন রক্ষাবাঁধ না থাকায় মূল ভূ-খন্ডসহ লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এই ইউনিয়নের কাচা রাস্তাগুলো পানির চাপে সব ভেঙ্গে গেছে। এছাড়াও শতাধিক মাছের বড় ঘের ও ২শতাধিক পুকুর তলিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকার মাছ চলে গেছে। পানির অতিরিক্ত চাপে বাঁশবাড়িয়া বেড়িবাঁধ এখন হুমকির মুখে, বেড়িবাঁধের বাহিরে প্রায় ৪০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পানিতে রবিশস্য, পুকুর ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন কাচা রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে উঠতি ফসলের ক্ষতির ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ বলেন,জলাবদ্ধতা নিরসন করা হলে তেমন ক্ষতির আশংকা নেই। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

দশমিনায় অবিরাম বর্ষন ও জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা

প্রকাশিত সময় ০১:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি’র প্রভাবে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ না থাকায় ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেছে। টানা বর্ষন ও জলাবদ্ধতার কারনে উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের চরঘুর্নি, পাতারচর, আউলিয়াপুর, দক্ষিণ রণগোপালদী, উত্তর রণগোপালদী, সদর ইউনিয়নের সবুজবাঁগ, হাজিরহাট, গোলখালী, কাটাখালী, চরহাদী, কাউয়ারচর, সৈয়দ জাফর, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়ীয়া গ্রাম,চরবাঁশবাড়ীয়া, চর সাইমুন, ঢনঢনিয়াসহ ১৬টি গ্রামের প্রায় ২২ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৮দিনের টানা ভারী প্রবল বর্ষনে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। উপজেলা সদরের সবুজবাগ এলাকায় অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারনে সড়ক তলিয়ে গেছে। ফলে এলাকার বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। উপজেলার নিচু এলাকার বাসিন্দাদের বসতঘরের উঠান,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়কে পানি জমে থাকায় মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় বাসিন্দারা নিত্যদিনের মতো কাজ করতে বের হতে পারছে না। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকাসহ নিচু এলাকার ফসলি জমিতে পানি থাকায় আমন ধানের চাষ ব্যাহত হওয়ায় আশংকা রয়েছে।
উপজেলার প্রধান ২টি নদী তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীতে পানি প্রবাহের চাপ বেড়ে যাওয়ায় নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপকূলসহ চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ না থাকার কারনে ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার কারনে কৃষকের চরম ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা সদরে পানি নিস্কাশনের জন্য কোন ড্রেন না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারনে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হবার কারনে পুকুর, ডোবা,জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। ফলে অনেক মাছ চাষী ক্ষতির আশংকা প্রকাশ করেছে। ভারী বর্ষন অব্যাহত থাকলে জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়ে যাবে। এছাড়াও উপজেলা সদর থেকে ১৪ কি:মি: দুরে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ রয়েছে চরবোরহান ইউনিয়ন। ঐ ইউনিয়নের চরবোরহান, দক্ষিণ চরশাহজালাল, উত্তর চরশাহজালালসহ ৯টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে পুকুরে মাছের ঘের তলিয়ে কোটি টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। চরবোরহান ইউনিয়ন রক্ষাবাঁধ না থাকায় মূল ভূ-খন্ডসহ লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এই ইউনিয়নের কাচা রাস্তাগুলো পানির চাপে সব ভেঙ্গে গেছে। এছাড়াও শতাধিক মাছের বড় ঘের ও ২শতাধিক পুকুর তলিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকার মাছ চলে গেছে। পানির অতিরিক্ত চাপে বাঁশবাড়িয়া বেড়িবাঁধ এখন হুমকির মুখে, বেড়িবাঁধের বাহিরে প্রায় ৪০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পানিতে রবিশস্য, পুকুর ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন কাচা রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে উঠতি ফসলের ক্ষতির ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ বলেন,জলাবদ্ধতা নিরসন করা হলে তেমন ক্ষতির আশংকা নেই। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।