ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নিহত ৪

ভারতের আসাম রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বুধবার আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় সাম্প্রতিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। সবশেষ সোনিতপুর জেলার একটি রাজস্ব সার্কেলে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি গত সোমবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় রাজ্যের ৬ জেলার ১২টি রাজস্ব সার্কেলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সোনিতপুর, ডিব্রুগড়, লখিমপুর, ধেমাজি, জোরহাট ও শিবসাগর জেলার শতাধিক গ্রামের ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লখিমপুর জেলা, যেখানে ৫৮টি গ্রাম পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বন্যার কারণে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও কৃষিজমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ধসে পড়ায় শত শত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

এদিকে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ২০টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। নিচু এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলছে।

রাজ্য সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, বন্যার পানিতে ১ হাজার ১০৩ হেক্টর কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। পানির স্রোতে দুটি গবাদিপশু ভেসে গেছে এবং ১৬ হাজারের বেশি গবাদিপশু ও পোল্ট্রি খামারের প্রাণী ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রসহ প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। আবহাওয়া দপ্তরের আশঙ্কা, প্রতিবেশী অরুণাচল প্রদেশে বৃষ্টিপাত আরও বাড়লে আসামের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

প্রশাসন ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

আসামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নিহত ৪

প্রকাশিত সময় ০১:২৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ভারতের আসাম রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বুধবার আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় সাম্প্রতিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। সবশেষ সোনিতপুর জেলার একটি রাজস্ব সার্কেলে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি গত সোমবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় রাজ্যের ৬ জেলার ১২টি রাজস্ব সার্কেলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সোনিতপুর, ডিব্রুগড়, লখিমপুর, ধেমাজি, জোরহাট ও শিবসাগর জেলার শতাধিক গ্রামের ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লখিমপুর জেলা, যেখানে ৫৮টি গ্রাম পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বন্যার কারণে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও কৃষিজমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ধসে পড়ায় শত শত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

এদিকে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ২০টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। নিচু এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলছে।

রাজ্য সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, বন্যার পানিতে ১ হাজার ১০৩ হেক্টর কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। পানির স্রোতে দুটি গবাদিপশু ভেসে গেছে এবং ১৬ হাজারের বেশি গবাদিপশু ও পোল্ট্রি খামারের প্রাণী ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রসহ প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। আবহাওয়া দপ্তরের আশঙ্কা, প্রতিবেশী অরুণাচল প্রদেশে বৃষ্টিপাত আরও বাড়লে আসামের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

প্রশাসন ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।