ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউপি নির্বাচন কবে কীভাবে হবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ১৭ সেপ্টেম্বর

  • প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশিত সময় ১১:৪৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৫ পড়েছেন

নিউজ ডেস্ক : স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। তবে নির্বাচন কবে হবে এবং কোন পদ্ধতিতে বা কোন পর্যায় থেকে শুরু হবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক সময়সূচি প্রকাশের পর সরকারের পক্ষ থেকে সেটি সম্পর্কে কিছু জানা নেই বলে মন্তব্য করা হলেও ইসি বলছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বললেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে গত দুই দিন ধরে কমিশনে প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। এর ভিত্তিতে পাঁচ ধাপে নির্বাচন আয়োজনের একটি প্রাথমিক সময়সূচি করা হয়েছে। এর সঙ্গে আরও দুটি ধাপ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নয়।

ইসি সচিবের মন্তব্য, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন ও ভোটগ্রহণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত অংশীজনদের নিয়ে বৈঠক হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় মতামত নেওয়া হবে। এরপর এসব মতামতের ভিত্তিতে কমিশন নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করবে।

১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের আগে কেন প্রাথমিক সময়সূচি করা হলো, তার ব্যাখ্যাও দেন আখতার আহমেদ। তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকে আলোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা প্রয়োজন। সে কারণে পাঁচ ধাপের নির্বাচন এবং দুটি সংরক্ষিত ধাপের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের প্রস্তুতির বিষয়গুলো কমিশনকে জানাতে পারেন।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব কোনো পাল্টা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বললেন, প্রতিমন্ত্রী যা বলেছেন, সেটি ‘শিরোধার্য’। এ বিষয়ে পাল্টা মন্তব্য করার ‘ধৃষ্টতা’ তিনি দেখাবেন না। তার ভাষায়, ‘নো কমেন্টস ফ্রম মাই সাইড।’

এদিকে একই দিন সরকারের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বললেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এ ধরনের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইসিকে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসির ‘একক কোনো এখতিয়ার নেই’। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন, সরকার এখনো কিছু জানে না, তাই সরকারের এই বক্তব্যকেই সঠিক ধরে নিতে হবে।

ইসির ঘোষিত সময়সূচি চূড়ান্ত কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বললেন, নির্বাচন পেছাবে নাকি এগোবে, সেটি আলোচনার বিষয়। তবে বিষয়টিকে ইসি ও সরকারের মধ্যে কোনো ধরনের সংঘাত হিসেবে না দেখার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। তবে ইসি সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, পাঁচটি ধাপ এবং দুটি সংরক্ষিত ধাপের ওই পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত সময়সূচি নয়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের মতামত পাওয়ার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আরও একটি পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বললেন, এবার স্থানীয় নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি অংশ নেবে না। প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক ছাড়া ব্যক্তিগত পরিচয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার আশা, এতে উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হবে এবং নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক পরিচিতি

জনপ্রিয়

ইউপি নির্বাচন কবে কীভাবে হবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ১৭ সেপ্টেম্বর

প্রকাশিত সময় ১১:৪৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউজ ডেস্ক : স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। তবে নির্বাচন কবে হবে এবং কোন পদ্ধতিতে বা কোন পর্যায় থেকে শুরু হবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক সময়সূচি প্রকাশের পর সরকারের পক্ষ থেকে সেটি সম্পর্কে কিছু জানা নেই বলে মন্তব্য করা হলেও ইসি বলছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বললেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে গত দুই দিন ধরে কমিশনে প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। এর ভিত্তিতে পাঁচ ধাপে নির্বাচন আয়োজনের একটি প্রাথমিক সময়সূচি করা হয়েছে। এর সঙ্গে আরও দুটি ধাপ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নয়।

ইসি সচিবের মন্তব্য, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন ও ভোটগ্রহণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত অংশীজনদের নিয়ে বৈঠক হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় মতামত নেওয়া হবে। এরপর এসব মতামতের ভিত্তিতে কমিশন নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করবে।

১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের আগে কেন প্রাথমিক সময়সূচি করা হলো, তার ব্যাখ্যাও দেন আখতার আহমেদ। তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকে আলোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা প্রয়োজন। সে কারণে পাঁচ ধাপের নির্বাচন এবং দুটি সংরক্ষিত ধাপের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের প্রস্তুতির বিষয়গুলো কমিশনকে জানাতে পারেন।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব কোনো পাল্টা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বললেন, প্রতিমন্ত্রী যা বলেছেন, সেটি ‘শিরোধার্য’। এ বিষয়ে পাল্টা মন্তব্য করার ‘ধৃষ্টতা’ তিনি দেখাবেন না। তার ভাষায়, ‘নো কমেন্টস ফ্রম মাই সাইড।’

এদিকে একই দিন সরকারের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বললেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এ ধরনের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইসিকে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসির ‘একক কোনো এখতিয়ার নেই’। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন, সরকার এখনো কিছু জানে না, তাই সরকারের এই বক্তব্যকেই সঠিক ধরে নিতে হবে।

ইসির ঘোষিত সময়সূচি চূড়ান্ত কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বললেন, নির্বাচন পেছাবে নাকি এগোবে, সেটি আলোচনার বিষয়। তবে বিষয়টিকে ইসি ও সরকারের মধ্যে কোনো ধরনের সংঘাত হিসেবে না দেখার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। তবে ইসি সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, পাঁচটি ধাপ এবং দুটি সংরক্ষিত ধাপের ওই পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত সময়সূচি নয়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের মতামত পাওয়ার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আরও একটি পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বললেন, এবার স্থানীয় নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি অংশ নেবে না। প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক ছাড়া ব্যক্তিগত পরিচয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার আশা, এতে উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হবে এবং নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে।