দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে, খুলনায় ততই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, গুলিবর্ষণ, ধারালো অস্ত্রের হামলা ও গণপিটুনির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র আট দিনের ব্যবধানে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত ১৯ আগস্ট নগরীর লবণচরা এলাকায় জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর পরদিন বুধবার সন্ধ্যায় লবণচরা থানাধীন আশিবিঘা কালভার্ট এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবক হত্যার শিকার হন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সেন্টারিং মিস্ত্রি মঞ্জুরুল ইসলাম (২২) নিহত হন। এর কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় গুলিতে প্রাণ হারান নাজমুল ইসলাম (১৮)।
এর আগে ১১ আগস্ট জেলার রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের রূপসা ব্রিকসে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ফখরুল ইসলাম (৩২) নিহত হন। ১৫ আগস্ট আইচগাতী ইউনিয়নের দুর্জনীমহল শহীদ মোড়ে জয় ঢালী নামে এক যুবককে জবাই করে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ১৮ আগস্ট রাতে নৈহাটীর আলো ফুটবে প্রতিবন্ধী স্কুলের কাছে মামুন মীর (৩৫) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একই রাতে নগরীর রায়েরমহল এলাকায় শিশু অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে গণপিটুনিতে রাজু (২৬) নামে এক যুবক নিহত হন। ধারাবাহিক এসব সহিংস ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনেকটা থমথমে পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের অনেকেই সন্ধ্যার পর তাদের বাইরে যেতে দিতে ভয় পাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় নানা ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নগরবাসী।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা, সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
নগরবাসীর মতে, শুধু ঘটনার পর অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূল কারণ চিহ্নিত করে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
লবণচরায় জোড়া হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে খুলনার সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম ও লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানান, প্রতিটি ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ডিবির সক্রিয় টিম, র্যাব-৬ ও পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, খুলনায় অপরাধীদের প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার, আধিপত্য বিস্তার এবং এসব ঘটনার পেছনের মূল কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে নগরবাসীর প্রত্যাশা, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে খুলনায় স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।
খুলনা প্রতিনিধি 















