চলতি বছরেই সারাদেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ক্যাথ ল্যাব স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ভুল পরীক্ষার ফাঁদ বন্ধ করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ভুল বা ত্রুটিপূর্ণ পরীক্ষার ফাঁদে পড়ে যেন জনগণের স্বাস্থ্য বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য ল্যাব পরিচালনার জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ানও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি সুস্থ, দক্ষ এবং গুণগত মানসম্পন্ন তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা প্রবীণ হয়ে যাচ্ছি, তাই দেশের ভবিষ্যৎ পরিচালনার জন্য একটি যোগ্য ও মানসম্মত তরুণ সমাজ গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা সমাজে তরুণদের অবক্ষয় রোধে কঠিন মাদকবিরোধী আইন, অনলাইন জুয়াসহ জুয়াবিরোধী আইন এবং ইভটিজিং প্রতিরোধে কঠোর আইন পাস করেছি। সমাজ থেকে সব ধরনের অনিয়ম দূর করে একটি আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন মেগা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছর থেকেই দেশের প্রতিটি গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। দেশের প্রতিটি ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার, স্বাস্থ্য সহকারী কেন্দ্র এবং কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কার (রিনোভেট) করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে উন্নত স্ক্রিনিং বক্সের ব্যবস্থা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৮০ হাজারই হবেন নারী স্বাস্থ্যকর্মী। তারা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মায়েদের প্রসবপূর্ব ও প্রসবপরবর্তী কাউন্সেলিং করবেন। এর মূল উদ্দেশ্য—প্রসূতি মায়েদের সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) উৎসাহিত করা, নবজাতকের মায়ের বুকের দুধ পানের হার বাড়ানো এবং শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালিসিস সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালিসিস সেন্টার করার কাজ শুরু হয়েছে। গরিব মানুষকে যেন চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা বিভাগীয় শহরে দৌড়াতে না হয়, সেজন্য প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালেও ১০ শয্যার ডায়ালিসিস সেন্টার করা হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এসব ল্যাব পরিচালনার জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ান ও বিশেষজ্ঞ প্রস্তুত করা হবে।
বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতের অগ্রগতি ও চিকিৎসকদের মেধার প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা যদি কখনো আমাদের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে যান, তবে দেখতে পাবেন এর সৌন্দর্য ও চিকিৎসাসেবা বিশ্বের যেকোনো উন্নত সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমকক্ষ। আমি নিজে সেখানে একটি অপারেশন দেখেছি, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক চিকিৎসকের মাথা থেকে হাড়ের অংশ সাময়িকভাবে অপসারণ করে (চিকিৎসার প্রয়োজনে) এক মাস সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ, সেই রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজের পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরে গেছেন। এটাই আজকের বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রকৃত চিত্র।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানাসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডেস্ক রিপোর্ট 















