ঢাকা ১১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবননগরে সরকারি রাস্তার জমি দখল করে আ’লীগ নেতার ধান চাষ ও আমবাগান

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবখালী গ্রামে ব্রিটিশ আমলের দুটি সরকারি রাস্তার জমি দখল করে ধান চাষ ও আমবাগান গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পথচারী,কৃষক,মসজিদের মুসল্লি,মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি,অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি উপজেলা ভূমি অফিস
সরকারি নকশা অনুযায়ী রাস্তার জমি পরিমাপ করে সীমানা পিলার স্থাপন করে। তবে অভিযোগ রয়েছে,অভিযুক্তরা রাতের আঁধারে সেই পিলার অপসারণ করে চলতি মৌসুমে পুনরায় রাস্তার জমিতে ধান রোপণ করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ
বিরাজ করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,মাধবখালী গ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা নুর ইসলাম (ইসলাম)-এর ছেলে মনিরুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও
যুবলীগের দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন। এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে,তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাস্তার জমি দখল করে কোথাও আমবাগান এবং কোথাও কৃষিজমি হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে কৃষকদের মাঠে যাতায়াত ও ফসল
পরিবহনে অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।রাস্তা দু’টি উদ্ধারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দু’দফায় উপজেলা প্রশাসন বরাবর গণপিটিশন দেয়া হয়েছে। গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও হায়দার আলী জানান,খানপাড়া জামে মসজিদ থেকে মাঠ পর্যন্ত রেকর্ডভুক্ত সরকারি রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে সেখানে
বিভিন্ন ধরনের চাষাবাদ করা হচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলা ভূমি অফিস রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করে পিলার স্থাপন করলেও তা রাতের আঁধারে তুলে ফেলা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।রাস্তাটি অবমুক্ত করা গেলে সীমান্তরক্ষী বিজিবির চলাচলও সহজ হবে। তাদের আরও অভিযোগ,পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের সরকারি রাস্তার অংশও দখল করে রাখা হয়েছে। ফলে স্থানীয় কৃষক,শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব ভুক্তভোগীদের দাবি উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখে একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করবেন। জীবননগর উপজেলা কৃষক জোটের সাধারণ সম্পাদক রাজেদুল ইসলাম বলেন, সরকারি রাস্তা দখল হয়ে থাকায় কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে অনেক পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা অবমুক্ত করার দাবি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। সম্প্রতি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার পর অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মাধবখালী পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ ও মাধবখালী রেসালাতুল কোরআন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিন্টু মিয়া বলেন,মসজিদ ও মাদ্রাসার পাশের সরকারি
রাস্তা দখল হয়ে যাওয়ায় মুসল্লি ও শিক্ষার্থীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কয়েক সেকেন্ডের পথ পাড়ি দিতে কয়েক মিনিট সময় লাগছে। বাধ্য হয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার
ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এছাড়া পথ পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় বেওয়ারিশ কুকুরের তাড়ারও শিকার হতে হচ্ছে। তিনি জানান,গ্রামবাসী সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রাস্তা দখলমুক্ত করার দাবিতে গণস্বাক্ষরসংবলিত আবেদন জমা
দিয়েছেন। মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট দু’টি ওয়ার্ডের মেম্বার জমির উদ্দিন ও তৌফিকুর রহমান টিটো বলেন,সরকারী রেকর্ডভুক্ত ও ম্যাপের রাস্তা জোরপূর্বক দীর্ঘদিন দখল করে ধান চাষ ও বাগান গড়ে তুলেছে।দখলদার কামরুল ও মনিরুলকে
এলাকাবাসী রাস্তাটি অবমুক্ত করতে বললে তাদের সাথে মারমুখি আচরন করে থাকে। এব্যাপারে আমরা উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অভিযোগ অস্বীকার করে কামরুল ইসলাম বলেন,আমরা বাপ-দাদার আমল থেকেই জমি
ভোগদখল করে আসছি। আমাদের পূর্বপুরুষরা স্থানীয় হিন্দু (দাশ) সম্প্রদায়ের কাছ থেকে রাস্তাসহ জমি ক্রয় করেছিলেন। তাই আমরা নিজেদের বৈধ মালিক মনেকরি। আমরা অবৈধ দখলদার নই। জীবননগর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সজিব হোসেন বলেন, সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী মাধবখালী মৌজার ২ নম্বর শিটের ১ নম্বর খতিয়ানের ৯০৩,১৩৭৮ ও ১৩৮৪
নম্বর দাগ এবং ধোপাখালী মৌজার ১ নম্বর শিটের ১ নম্বর খতিয়ানের ১৫০ ও ৯৫ নম্বর দাগভুক্ত মোট সরকারি রাস্তার জমি সরকারি নকশা অনুযায়ী সম্প্রতি পরিমাপ করে ৭৯ শতক রাস্তার জমির সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,পরিমাপের সময় অভিযুক্তদের একজন তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, স্থাপিত সীমানা পিলার রাতের আঁধারে অপসারণ করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে অবহিত করেছেন। তবে,ঘটনাস্থলে সাংবাদিকেরা সরজমিনে গেলে তাদের সাথে দখলদার কামরুল অত্যন্ত খারাপ আচরন করে এবং আওয়ামীলীগ আবার আসলে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।
সরকারি রাস্তা পুনরুদ্ধার এবং দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে,সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত না হলে কৃষিকাজ,শিক্ষা কার্যক্রম এবং
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে জানান সুধী মহল ।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

জীবননগরে সরকারি রাস্তার জমি দখল করে আ’লীগ নেতার ধান চাষ ও আমবাগান

প্রকাশিত সময় ০৩:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবখালী গ্রামে ব্রিটিশ আমলের দুটি সরকারি রাস্তার জমি দখল করে ধান চাষ ও আমবাগান গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পথচারী,কৃষক,মসজিদের মুসল্লি,মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি,অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি উপজেলা ভূমি অফিস
সরকারি নকশা অনুযায়ী রাস্তার জমি পরিমাপ করে সীমানা পিলার স্থাপন করে। তবে অভিযোগ রয়েছে,অভিযুক্তরা রাতের আঁধারে সেই পিলার অপসারণ করে চলতি মৌসুমে পুনরায় রাস্তার জমিতে ধান রোপণ করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ
বিরাজ করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,মাধবখালী গ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা নুর ইসলাম (ইসলাম)-এর ছেলে মনিরুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও
যুবলীগের দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন। এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে,তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাস্তার জমি দখল করে কোথাও আমবাগান এবং কোথাও কৃষিজমি হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে কৃষকদের মাঠে যাতায়াত ও ফসল
পরিবহনে অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।রাস্তা দু’টি উদ্ধারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দু’দফায় উপজেলা প্রশাসন বরাবর গণপিটিশন দেয়া হয়েছে। গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও হায়দার আলী জানান,খানপাড়া জামে মসজিদ থেকে মাঠ পর্যন্ত রেকর্ডভুক্ত সরকারি রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে সেখানে
বিভিন্ন ধরনের চাষাবাদ করা হচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলা ভূমি অফিস রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করে পিলার স্থাপন করলেও তা রাতের আঁধারে তুলে ফেলা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।রাস্তাটি অবমুক্ত করা গেলে সীমান্তরক্ষী বিজিবির চলাচলও সহজ হবে। তাদের আরও অভিযোগ,পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের সরকারি রাস্তার অংশও দখল করে রাখা হয়েছে। ফলে স্থানীয় কৃষক,শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব ভুক্তভোগীদের দাবি উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখে একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করবেন। জীবননগর উপজেলা কৃষক জোটের সাধারণ সম্পাদক রাজেদুল ইসলাম বলেন, সরকারি রাস্তা দখল হয়ে থাকায় কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে অনেক পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা অবমুক্ত করার দাবি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। সম্প্রতি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার পর অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মাধবখালী পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ ও মাধবখালী রেসালাতুল কোরআন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিন্টু মিয়া বলেন,মসজিদ ও মাদ্রাসার পাশের সরকারি
রাস্তা দখল হয়ে যাওয়ায় মুসল্লি ও শিক্ষার্থীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কয়েক সেকেন্ডের পথ পাড়ি দিতে কয়েক মিনিট সময় লাগছে। বাধ্য হয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার
ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এছাড়া পথ পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় বেওয়ারিশ কুকুরের তাড়ারও শিকার হতে হচ্ছে। তিনি জানান,গ্রামবাসী সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রাস্তা দখলমুক্ত করার দাবিতে গণস্বাক্ষরসংবলিত আবেদন জমা
দিয়েছেন। মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট দু’টি ওয়ার্ডের মেম্বার জমির উদ্দিন ও তৌফিকুর রহমান টিটো বলেন,সরকারী রেকর্ডভুক্ত ও ম্যাপের রাস্তা জোরপূর্বক দীর্ঘদিন দখল করে ধান চাষ ও বাগান গড়ে তুলেছে।দখলদার কামরুল ও মনিরুলকে
এলাকাবাসী রাস্তাটি অবমুক্ত করতে বললে তাদের সাথে মারমুখি আচরন করে থাকে। এব্যাপারে আমরা উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অভিযোগ অস্বীকার করে কামরুল ইসলাম বলেন,আমরা বাপ-দাদার আমল থেকেই জমি
ভোগদখল করে আসছি। আমাদের পূর্বপুরুষরা স্থানীয় হিন্দু (দাশ) সম্প্রদায়ের কাছ থেকে রাস্তাসহ জমি ক্রয় করেছিলেন। তাই আমরা নিজেদের বৈধ মালিক মনেকরি। আমরা অবৈধ দখলদার নই। জীবননগর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সজিব হোসেন বলেন, সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী মাধবখালী মৌজার ২ নম্বর শিটের ১ নম্বর খতিয়ানের ৯০৩,১৩৭৮ ও ১৩৮৪
নম্বর দাগ এবং ধোপাখালী মৌজার ১ নম্বর শিটের ১ নম্বর খতিয়ানের ১৫০ ও ৯৫ নম্বর দাগভুক্ত মোট সরকারি রাস্তার জমি সরকারি নকশা অনুযায়ী সম্প্রতি পরিমাপ করে ৭৯ শতক রাস্তার জমির সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,পরিমাপের সময় অভিযুক্তদের একজন তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, স্থাপিত সীমানা পিলার রাতের আঁধারে অপসারণ করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে অবহিত করেছেন। তবে,ঘটনাস্থলে সাংবাদিকেরা সরজমিনে গেলে তাদের সাথে দখলদার কামরুল অত্যন্ত খারাপ আচরন করে এবং আওয়ামীলীগ আবার আসলে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।
সরকারি রাস্তা পুনরুদ্ধার এবং দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে,সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত না হলে কৃষিকাজ,শিক্ষা কার্যক্রম এবং
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে জানান সুধী মহল ।