ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবন বাঁচানোর শেষ লড়াইয়ে আরাফাত, প্রয়োজন ২.৫ লাখ টাকা

একদিকে চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসার শঙ্কা, অন্যদিকে জীবন বাঁচানোর শেষ লড়াই। পাঁচ বছর ধরে ব্রেন টিউমারের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন খুলনার পাইকগাছার তরুণ মো. আরাফাত হোসেন। ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে বাবা-মা হারিয়েছেন তাদের শেষ সম্বলটুকুও। জমি বিক্রি, সঞ্চয় শেষ, ধারদেনা—কোনো কিছুই বাদ রাখেনি পরিবার। এখন চিকিৎসকেরা জরুরি অস্ত্রোপচারের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থের অভাবে অনিশ্চয়তায় পড়েছে আরাফাতের চিকিৎসা।

পাইকগাছা উপজেলার ভিলেজ পাইকগাছার সোনাদানা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আরাফাতের বাবা রাব্বানী মালী জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে তার ছেলের ব্রেন টিউমার শনাক্ত হয়। এরপর খুলনা, ঢাকা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ব্রেন টিউমারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। টিউমার ছোট থাকায় প্রথমে তাকে ছয় মাসের ওষুধ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে ফিরে ওষুধ সেবনের পর কিছুদিন সুস্থ থাকলেও পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে আবার ভারতের ভেলোরের সিএমসি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জরুরি অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। অস্ত্রোপচার না করা হলে তার চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানান চিকিৎসকেরা।

অস্ত্রোপচারে মোট প্রায় ৮ লাখ টাকা প্রয়োজন। পরিবারের পক্ষ থেকে শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে ইতোমধ্যে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে আরাফাতের চিকিৎসায় পরিবারের প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন হলেও নিঃস্বপ্রায় পরিবারের পক্ষে সেই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না।

আরাফাতের বাবা রাব্বানী মালী বলেন, “ছেলেকে বাঁচানোর জন্য যা কিছু ছিল, সবকিছু শেষ করে ফেলেছি। জমি বিক্রি করেছি, ধারদেনা করেছি, মানুষের সহযোগিতাও নিয়েছি। পাঁচ বছর ধরে শুধু ছেলেটাকে সুস্থ করার আশায় ছুটে বেড়াচ্ছি। এখন ডাক্তার বলেছেন দ্রুত অপারেশন করতে হবে, না হলে তার চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। একজন বাবা হিসেবে এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে! আমার আর কিছু নেই, এখন মানুষের সহযোগিতাই আমার শেষ ভরসা।”

সোনাদানা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজিজুল রহমান লাবলু বলেন, “আরাফাতের পরিবার ছেলেটির চিকিৎসার জন্য সর্বস্ব শেষ করে ফেলেছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাদের শেষ সম্বলটুকুও আর নেই। এখন মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার জন্য একটি তরুণের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে। আমি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের কাছে অনুরোধ করব, আরাফাতের পাশে দাঁড়ান। আপনার সামান্য সহযোগিতাও হয়তো তার চোখের আলো এবং জীবন দুটোই বাঁচাতে পারে।”

আরাফাতের পরিবার এখন শুধু অর্থের জন্য নয়, একটি জীবনের জন্য মানুষের দরজায় কড়া নাড়ছে। পাঁচ বছর ধরে ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখতে সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়া বাবা রাব্বানী মালী আজ নিঃস্বপ্রায়। চোখের

সামনে সন্তানের কষ্ট আর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তাকে প্রতিনিয়ত ভেঙে দিচ্ছে। এই কঠিন সময়ে সমাজের মানুষের সামান্য সহায়তাই হতে পারে আরাফাতের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন। আজ আরাফাতের প্রয়োজন শুধু টাকা নয়—প্রয়োজন মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও পাশে দাঁড়ানোর হাত।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরাফাতের চিকিৎসা ও সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ০১৭১২-০১৪৭৭৪ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

জীবন বাঁচানোর শেষ লড়াইয়ে আরাফাত, প্রয়োজন ২.৫ লাখ টাকা

প্রকাশিত সময় ১২:৪৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

একদিকে চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসার শঙ্কা, অন্যদিকে জীবন বাঁচানোর শেষ লড়াই। পাঁচ বছর ধরে ব্রেন টিউমারের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন খুলনার পাইকগাছার তরুণ মো. আরাফাত হোসেন। ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে বাবা-মা হারিয়েছেন তাদের শেষ সম্বলটুকুও। জমি বিক্রি, সঞ্চয় শেষ, ধারদেনা—কোনো কিছুই বাদ রাখেনি পরিবার। এখন চিকিৎসকেরা জরুরি অস্ত্রোপচারের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থের অভাবে অনিশ্চয়তায় পড়েছে আরাফাতের চিকিৎসা।

পাইকগাছা উপজেলার ভিলেজ পাইকগাছার সোনাদানা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আরাফাতের বাবা রাব্বানী মালী জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে তার ছেলের ব্রেন টিউমার শনাক্ত হয়। এরপর খুলনা, ঢাকা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ব্রেন টিউমারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। টিউমার ছোট থাকায় প্রথমে তাকে ছয় মাসের ওষুধ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে ফিরে ওষুধ সেবনের পর কিছুদিন সুস্থ থাকলেও পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে আবার ভারতের ভেলোরের সিএমসি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জরুরি অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। অস্ত্রোপচার না করা হলে তার চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানান চিকিৎসকেরা।

অস্ত্রোপচারে মোট প্রায় ৮ লাখ টাকা প্রয়োজন। পরিবারের পক্ষ থেকে শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে ইতোমধ্যে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে আরাফাতের চিকিৎসায় পরিবারের প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন হলেও নিঃস্বপ্রায় পরিবারের পক্ষে সেই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না।

আরাফাতের বাবা রাব্বানী মালী বলেন, “ছেলেকে বাঁচানোর জন্য যা কিছু ছিল, সবকিছু শেষ করে ফেলেছি। জমি বিক্রি করেছি, ধারদেনা করেছি, মানুষের সহযোগিতাও নিয়েছি। পাঁচ বছর ধরে শুধু ছেলেটাকে সুস্থ করার আশায় ছুটে বেড়াচ্ছি। এখন ডাক্তার বলেছেন দ্রুত অপারেশন করতে হবে, না হলে তার চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। একজন বাবা হিসেবে এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে! আমার আর কিছু নেই, এখন মানুষের সহযোগিতাই আমার শেষ ভরসা।”

সোনাদানা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজিজুল রহমান লাবলু বলেন, “আরাফাতের পরিবার ছেলেটির চিকিৎসার জন্য সর্বস্ব শেষ করে ফেলেছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাদের শেষ সম্বলটুকুও আর নেই। এখন মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার জন্য একটি তরুণের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে। আমি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের কাছে অনুরোধ করব, আরাফাতের পাশে দাঁড়ান। আপনার সামান্য সহযোগিতাও হয়তো তার চোখের আলো এবং জীবন দুটোই বাঁচাতে পারে।”

আরাফাতের পরিবার এখন শুধু অর্থের জন্য নয়, একটি জীবনের জন্য মানুষের দরজায় কড়া নাড়ছে। পাঁচ বছর ধরে ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখতে সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়া বাবা রাব্বানী মালী আজ নিঃস্বপ্রায়। চোখের

সামনে সন্তানের কষ্ট আর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তাকে প্রতিনিয়ত ভেঙে দিচ্ছে। এই কঠিন সময়ে সমাজের মানুষের সামান্য সহায়তাই হতে পারে আরাফাতের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন। আজ আরাফাতের প্রয়োজন শুধু টাকা নয়—প্রয়োজন মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও পাশে দাঁড়ানোর হাত।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরাফাতের চিকিৎসা ও সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ০১৭১২-০১৪৭৭৪ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।