ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাকোপে অবৈধ বেহুন্দিজালে মাছের পোনা নিধনের অভিযোগ

খুলনার দাকোপে বিভিন্ন নদীতে অবাধে নিষিদ্ধ বেহুন্দিজাল পেতে মাছ শিকার করা হচ্ছে| নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কতিপয় অসাধু জেলেরা প্রকাশ্যে এ মাছ শিকার করছেন| এতে প্রতিনিয়ত দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য মাছের পোনা নিধন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে| প্রসাশনের নাকের ডগায় ¯^ার্থনেষী জেলেরা বহাল তবিয়তে এ কাজ চালিয়ে আসলেও যেন দেখার কেউ নেই| উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে নাম মাত্র অভিযান চালিয়ে দুই একটি বেহুন্দিজাল জব্দ করলেও কখনো থেমে নেই এই অবৈধ কাজ|
সরেজমিন এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাজিবাছা, পশুর, চুনকুড়ি, ঢাকি, ভদ্রা, কালাবগী ও শিবসাসহ বিভিন্ন নদীতে নিষিদ্ধ বেহুন্দিজালে এ মাছ শিকার চলে আসছে| সরকার নীতিমালায় বেহুন্দিজালে মাছ শিকার সম্পূর্ন নিষিদ্ধ বলে ঘোষনা করেছেন| কিন্তু সরকারি ওই আইন অমান্য করে কতিপয় ¯^ার্থনেষী জেলেরা অবাধে মাছ শিকার করছেন| এমনকি চলতি মাছের প্রজনন মৌসুমেও থেমে নেই এ মাছ শিকার| এছাড়া পাশর্^বর্তী বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা, কয়রা, রামপাল ও মোংলা উপজেলার বিভিন্ন নদীতেও একই অবস্থা বিরামান| প্রতিদিন এভাবে চিংড়ি, ভোলা, পারসেসহ লক্ষ লক্ষ মাছের পোনা নিধন হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্তির পথে| স্থানীয় মৎস্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত ঘন ফাঁসের বেহুন্দিজাল নেটজালের সমান ক্ষতিকর| যে কারণে সরকার বেহুন্দিজালও নিষিদ্ধ করেছেন| আর এই বেহুন্দিজালে প্রতিদিন শতাধিকেরও বেশি প্রজাতির অসংখ্য মাছের পোনা নিধন হচ্ছে| এই ছোট ছোট মাছ আবার প্রকাশ্যে বিভিন্ন হাট বাজারে বেচা কেনাও হচ্ছে|
এবিষয়ে ফিশ ফার্ম অনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব) সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান সাহীন বলেন, প্রথমে বেহুন্দিজাল উৎপত্তিস্থল কারখানা বন্ধ করতে হবে| এরপর মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন কাগজ কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে আইনের সঠিক প্রয়োগে মৎস্য অধিদপ্তরকে আরো অগ্রগামী ভূমিকা রাখতে হবে| এছাড়া গরিব অসহায় জেলেরা পেটেরদায় আইন লংঘন করছেন| তবে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান অথবা ভাতার আওতায় আনতে হবে| আর যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক এই মৎস্য সম্পদ অচিরেই বিলুপ্ত হতে পারে|
এব্যাপারে উপজেলা সিনিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ১ জানুয়ারি হতে ৩০ জুন পর্যন্ত নৌপুলিশ, কোস্ট গার্ড ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ৭৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে| এসময় ৩ লক্ষ ৮ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ৩৫টি বেহুন্দীজাল, ৪৩০টি মশারি জাল, ১৪২টি চরপাটা জাল, ২৪টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়| এছাড়া গত ৮ জুলাই চালনা বাজারে মোবাইল কোর্ট করে ১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়| এসময়ে কারেন্ট জাল বিক্রির অপরাধে ব্যবসায়ীকে ১৫০০ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত| তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন খাল ও নদীতে নেট পাটা উচ্ছেদ করার সতর্কতা হিসেবে মাইকিং করা হচ্ছে|
এবিষয়ে খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান বলেন, নদীতে বেহুন্দিজাল ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ| মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে| পর্যায়ক্রমে অব্যহত অভিযানে বেহুন্দিজাল অপসারণ করা হবে|

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

দাকোপে অবৈধ বেহুন্দিজালে মাছের পোনা নিধনের অভিযোগ

প্রকাশিত সময় ০২:০৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

খুলনার দাকোপে বিভিন্ন নদীতে অবাধে নিষিদ্ধ বেহুন্দিজাল পেতে মাছ শিকার করা হচ্ছে| নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কতিপয় অসাধু জেলেরা প্রকাশ্যে এ মাছ শিকার করছেন| এতে প্রতিনিয়ত দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য মাছের পোনা নিধন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে| প্রসাশনের নাকের ডগায় ¯^ার্থনেষী জেলেরা বহাল তবিয়তে এ কাজ চালিয়ে আসলেও যেন দেখার কেউ নেই| উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে নাম মাত্র অভিযান চালিয়ে দুই একটি বেহুন্দিজাল জব্দ করলেও কখনো থেমে নেই এই অবৈধ কাজ|
সরেজমিন এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাজিবাছা, পশুর, চুনকুড়ি, ঢাকি, ভদ্রা, কালাবগী ও শিবসাসহ বিভিন্ন নদীতে নিষিদ্ধ বেহুন্দিজালে এ মাছ শিকার চলে আসছে| সরকার নীতিমালায় বেহুন্দিজালে মাছ শিকার সম্পূর্ন নিষিদ্ধ বলে ঘোষনা করেছেন| কিন্তু সরকারি ওই আইন অমান্য করে কতিপয় ¯^ার্থনেষী জেলেরা অবাধে মাছ শিকার করছেন| এমনকি চলতি মাছের প্রজনন মৌসুমেও থেমে নেই এ মাছ শিকার| এছাড়া পাশর্^বর্তী বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা, কয়রা, রামপাল ও মোংলা উপজেলার বিভিন্ন নদীতেও একই অবস্থা বিরামান| প্রতিদিন এভাবে চিংড়ি, ভোলা, পারসেসহ লক্ষ লক্ষ মাছের পোনা নিধন হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্তির পথে| স্থানীয় মৎস্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত ঘন ফাঁসের বেহুন্দিজাল নেটজালের সমান ক্ষতিকর| যে কারণে সরকার বেহুন্দিজালও নিষিদ্ধ করেছেন| আর এই বেহুন্দিজালে প্রতিদিন শতাধিকেরও বেশি প্রজাতির অসংখ্য মাছের পোনা নিধন হচ্ছে| এই ছোট ছোট মাছ আবার প্রকাশ্যে বিভিন্ন হাট বাজারে বেচা কেনাও হচ্ছে|
এবিষয়ে ফিশ ফার্ম অনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব) সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান সাহীন বলেন, প্রথমে বেহুন্দিজাল উৎপত্তিস্থল কারখানা বন্ধ করতে হবে| এরপর মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন কাগজ কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে আইনের সঠিক প্রয়োগে মৎস্য অধিদপ্তরকে আরো অগ্রগামী ভূমিকা রাখতে হবে| এছাড়া গরিব অসহায় জেলেরা পেটেরদায় আইন লংঘন করছেন| তবে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান অথবা ভাতার আওতায় আনতে হবে| আর যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক এই মৎস্য সম্পদ অচিরেই বিলুপ্ত হতে পারে|
এব্যাপারে উপজেলা সিনিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ১ জানুয়ারি হতে ৩০ জুন পর্যন্ত নৌপুলিশ, কোস্ট গার্ড ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ৭৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে| এসময় ৩ লক্ষ ৮ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ৩৫টি বেহুন্দীজাল, ৪৩০টি মশারি জাল, ১৪২টি চরপাটা জাল, ২৪টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়| এছাড়া গত ৮ জুলাই চালনা বাজারে মোবাইল কোর্ট করে ১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়| এসময়ে কারেন্ট জাল বিক্রির অপরাধে ব্যবসায়ীকে ১৫০০ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত| তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন খাল ও নদীতে নেট পাটা উচ্ছেদ করার সতর্কতা হিসেবে মাইকিং করা হচ্ছে|
এবিষয়ে খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান বলেন, নদীতে বেহুন্দিজাল ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ| মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে| পর্যায়ক্রমে অব্যহত অভিযানে বেহুন্দিজাল অপসারণ করা হবে|