ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুইযুগের অপেক্ষার অবসান, দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ইতিহাস গড়ল ব্রাজিল

জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমে গোল হজম করায় যেন অতীতের তিক্ত স্মৃতিই ফিরে এসেছিল ব্রাজিলের সামনে। কারণ, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পিছিয়ে পড়ার পর ২০০২ সালের পর আর কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে সেলেসাওরা।
রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াইয়ে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২৪ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। দৃঢ় মানসিকতা, অভিজ্ঞতা এবং শেষ মুহূর্তের অসাধারণ লড়াইয়ে বিরল এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে তারা।
ম্যাচের শুরুতে সানোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকায় চাপে পড়ে ব্রাজিল। তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর গোলে সমতা ফেরায় সেলেসাওরা। এরপর যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপের নকআউটে ব্রাজিলের সর্বশেষ সফল প্রত্যাবর্তন ছিল ২০০২ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। মাইকেল ওয়েনের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রিভালদো সমতা ফেরান, আর রোনালদিনিওর স্মরণীয় ফ্রি-কিকে ২-১ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে ব্রাজিল। এরপর দীর্ঘ ২৪ বছর এমন কীর্তি আর দেখা যায়নি।
অবশ্য বিশ্বকাপের ইতিহাসে পিছিয়ে পড়েও জয়ের নজির ব্রাজিলের নতুন নয়। ১৯৫৮ সালের ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনকে ৫-২ গোলে এবং ১৯৬২ সালের ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। এছাড়া ১৯৩৮, ১৯৭০ ও ১৯৮২ বিশ্বকাপেও একাধিক ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়েছিল সেলেসাওরা।
কিন্তু ২০০২ সালের পর নকআউট পর্বে প্রথম গোল হজম করলেই বিদায় নিতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। ২০০৬ সালে ফ্রান্স, ২০১৪ সালে জার্মানি এবং ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে হেরে শেষ হয়েছিল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।
অবশেষে জাপানের বিপক্ষে সেই অভিশাপ ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ল ব্রাজিল। নাটকীয় এই জয় শুধু শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেনি, বরং বিশ্বকাপের নকআউটে ব্রাজিলের ঘুরে দাঁড়ানোর ঐতিহ্যকেও নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক পরিচিতি

জনপ্রিয়

দুইযুগের অপেক্ষার অবসান, দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ইতিহাস গড়ল ব্রাজিল

প্রকাশিত সময় ১০:১১:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমে গোল হজম করায় যেন অতীতের তিক্ত স্মৃতিই ফিরে এসেছিল ব্রাজিলের সামনে। কারণ, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পিছিয়ে পড়ার পর ২০০২ সালের পর আর কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে সেলেসাওরা।
রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াইয়ে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২৪ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। দৃঢ় মানসিকতা, অভিজ্ঞতা এবং শেষ মুহূর্তের অসাধারণ লড়াইয়ে বিরল এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে তারা।
ম্যাচের শুরুতে সানোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকায় চাপে পড়ে ব্রাজিল। তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর গোলে সমতা ফেরায় সেলেসাওরা। এরপর যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপের নকআউটে ব্রাজিলের সর্বশেষ সফল প্রত্যাবর্তন ছিল ২০০২ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। মাইকেল ওয়েনের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রিভালদো সমতা ফেরান, আর রোনালদিনিওর স্মরণীয় ফ্রি-কিকে ২-১ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে ব্রাজিল। এরপর দীর্ঘ ২৪ বছর এমন কীর্তি আর দেখা যায়নি।
অবশ্য বিশ্বকাপের ইতিহাসে পিছিয়ে পড়েও জয়ের নজির ব্রাজিলের নতুন নয়। ১৯৫৮ সালের ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনকে ৫-২ গোলে এবং ১৯৬২ সালের ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। এছাড়া ১৯৩৮, ১৯৭০ ও ১৯৮২ বিশ্বকাপেও একাধিক ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়েছিল সেলেসাওরা।
কিন্তু ২০০২ সালের পর নকআউট পর্বে প্রথম গোল হজম করলেই বিদায় নিতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। ২০০৬ সালে ফ্রান্স, ২০১৪ সালে জার্মানি এবং ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে হেরে শেষ হয়েছিল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।
অবশেষে জাপানের বিপক্ষে সেই অভিশাপ ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ল ব্রাজিল। নাটকীয় এই জয় শুধু শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেনি, বরং বিশ্বকাপের নকআউটে ব্রাজিলের ঘুরে দাঁড়ানোর ঐতিহ্যকেও নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল।