ঢাকা ০১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কতটা, জানালেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন লক্ষাধিক মানুষ এবং মারা যান ৪১৩ জন। তবে এ বছর রোগটির ভয়াবহতা কম বলে জানালেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্সের সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

মীর শাহে আলম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি কিছু ব্যর্থতাও রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসাকে সরকারের একটি সফলতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হয়েছে। তবে ফগার মেশিনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি টাস্কফোর্সের সভায় আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শনিবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে পিরোজপুরকে নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে এবার পিরোজপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। শহরাঞ্চলের বাইরে একটি জেলায় হঠাৎ করে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হওয়ার বিষয়টি কিছুটা আশ্চর্যজনক।

পিরোজপুরে ডেঙ্গু সংক্রমণের কারণ অনুসন্ধানে সেখানে জমে থাকা পানিকে দায়ী করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে প্রচুর নারকেল ও সুপারি গাছ রয়েছে। গাছ কাটার পর গোড়ার অংশে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। এসব জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা উৎপন্ন হয়ে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতা তৈরির কাজ চলছে। একইসঙ্গে বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশেষ করে পরিত্যক্ত ভাঙা টায়ার, কমোড, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান মীর শাহে আলম। এসব স্থানে পানি জমে থাকলে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নাগরিকরা নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কতটা, জানালেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত সময় ০২:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন লক্ষাধিক মানুষ এবং মারা যান ৪১৩ জন। তবে এ বছর রোগটির ভয়াবহতা কম বলে জানালেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্সের সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

মীর শাহে আলম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি কিছু ব্যর্থতাও রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসাকে সরকারের একটি সফলতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হয়েছে। তবে ফগার মেশিনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি টাস্কফোর্সের সভায় আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শনিবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে পিরোজপুরকে নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে এবার পিরোজপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। শহরাঞ্চলের বাইরে একটি জেলায় হঠাৎ করে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হওয়ার বিষয়টি কিছুটা আশ্চর্যজনক।

পিরোজপুরে ডেঙ্গু সংক্রমণের কারণ অনুসন্ধানে সেখানে জমে থাকা পানিকে দায়ী করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে প্রচুর নারকেল ও সুপারি গাছ রয়েছে। গাছ কাটার পর গোড়ার অংশে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। এসব জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা উৎপন্ন হয়ে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতা তৈরির কাজ চলছে। একইসঙ্গে বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশেষ করে পরিত্যক্ত ভাঙা টায়ার, কমোড, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান মীর শাহে আলম। এসব স্থানে পানি জমে থাকলে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নাগরিকরা নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে।