ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসাগরে দুই মাছ ধরার ট্রলারডুবি : ১৬ জেলে উদ্ধার, নিখোঁজ ২

বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে বরগুনা জেলার তালতলীর ফকিরহাট সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ১৮ জন জেলেসহ দুটি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্বার করা সম্ভব হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দুই জেলে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট উপ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ জেলেরা হলেন কালাম পাইকার ও শহীদ। তারা দুজনেই উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা।উদ্বার হওয়া জেলেরা হলেন খলিল মাস্টার, হৃদয় জোমাদ্দার, দুলাল, ইমরান, ফারুক, আল-আমিন, মনির, আশরাফুল, জামাল, ইমরান, শামিম, নাসির, সাগর, আসিব, নাসির, নুরুজ্জামান।

তারা সবাই উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। উদ্বার হওয়া জেলে খলিল মাস্টার জানান, মঙ্গলবার সকালে আমরা ফকিরহাট উপ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে দুটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে রওনা হই। এরমধ্যে ১টি ট্রলারে ১৩ জন ও আরেকটি ট্রলারে ৫ জন জেলে ছিলে। রাতে হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলার দুটি দুর্ঘটনার পতিত হয়।

ঢেউয়ের তোড়ে আলমগীর খলিফার মালিকানাধীন ট্রলারটি ডুবে গেলে ওই ট্রলারের জেলেরা জীবন বাঁচাতে তপন জোমাদ্দারের মালিকানাধীন ট্রলারে গিয়ে ওঠেন। কিন্তু একপর্যায়ে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ওই ট্রলারটিও ডুবে গেলে আমিসহ অন্য জেলেরা সাগরে ভাসতে থাকি। পরে রাত ৩টার দিকে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার এসে আমাদের ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেলার মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। তবে বাকি ২ জন কালাম পাইকার ও শহীদকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফকিরহাট উপ- মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফরাজী বলেন, ‘মঙ্গলবার ১৮ জন জেলেসহ দুটি ট্রলার সাগরে ডুবে যায়।

আজ সকালে ১৬ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের পটুয়াখালীর মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে অন্য ২ জন জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সমিতির পক্ষ থেকেও নিখোঁজ দুই জেলেদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’ তালতলী কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য আমরা এখনো অভিযান শুরু করতে পারিনি। কারণ সাগর এতটাই উত্তাল রয়েছে যে কারনে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব না। আবহাওয়া ভালো হলেই উদ্ধার অভিযানে বের হব।’তালতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সংগেই কোস্টগার্ড এবং নৌ পুলিশকে অবহিত করেছি। তবে সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া ১৬ জন জেলের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পটুয়াখালীর মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছি।’

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

বঙ্গোপসাগরে দুই মাছ ধরার ট্রলারডুবি : ১৬ জেলে উদ্ধার, নিখোঁজ ২

প্রকাশিত সময় ০৪:২২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে বরগুনা জেলার তালতলীর ফকিরহাট সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ১৮ জন জেলেসহ দুটি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্বার করা সম্ভব হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দুই জেলে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট উপ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ জেলেরা হলেন কালাম পাইকার ও শহীদ। তারা দুজনেই উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা।উদ্বার হওয়া জেলেরা হলেন খলিল মাস্টার, হৃদয় জোমাদ্দার, দুলাল, ইমরান, ফারুক, আল-আমিন, মনির, আশরাফুল, জামাল, ইমরান, শামিম, নাসির, সাগর, আসিব, নাসির, নুরুজ্জামান।

তারা সবাই উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। উদ্বার হওয়া জেলে খলিল মাস্টার জানান, মঙ্গলবার সকালে আমরা ফকিরহাট উপ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে দুটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে রওনা হই। এরমধ্যে ১টি ট্রলারে ১৩ জন ও আরেকটি ট্রলারে ৫ জন জেলে ছিলে। রাতে হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলার দুটি দুর্ঘটনার পতিত হয়।

ঢেউয়ের তোড়ে আলমগীর খলিফার মালিকানাধীন ট্রলারটি ডুবে গেলে ওই ট্রলারের জেলেরা জীবন বাঁচাতে তপন জোমাদ্দারের মালিকানাধীন ট্রলারে গিয়ে ওঠেন। কিন্তু একপর্যায়ে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ওই ট্রলারটিও ডুবে গেলে আমিসহ অন্য জেলেরা সাগরে ভাসতে থাকি। পরে রাত ৩টার দিকে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার এসে আমাদের ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেলার মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। তবে বাকি ২ জন কালাম পাইকার ও শহীদকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফকিরহাট উপ- মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফরাজী বলেন, ‘মঙ্গলবার ১৮ জন জেলেসহ দুটি ট্রলার সাগরে ডুবে যায়।

আজ সকালে ১৬ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের পটুয়াখালীর মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে অন্য ২ জন জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সমিতির পক্ষ থেকেও নিখোঁজ দুই জেলেদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’ তালতলী কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য আমরা এখনো অভিযান শুরু করতে পারিনি। কারণ সাগর এতটাই উত্তাল রয়েছে যে কারনে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব না। আবহাওয়া ভালো হলেই উদ্ধার অভিযানে বের হব।’তালতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সংগেই কোস্টগার্ড এবং নৌ পুলিশকে অবহিত করেছি। তবে সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া ১৬ জন জেলের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পটুয়াখালীর মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছি।’