ঢাকা ১২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু নিছামনিকে ধর্ষণ-হত্যা, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চাঞ্চল্যকর শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নদীতে ফেলে হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক অপর আসামি মারুফকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের দোলাল মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া (১৯), তাহের উদ্দিনের ছেলে রাকিব মিয়া (১৯) ও একই গ্রামের সিয়াম। এছাড়া একই গ্রামের রমজান আলীর ছেলে মারুফ মিয়াকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নিহত পাঁচ বছর বয়সী নিছামনি টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে শিশু নিছামনি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৬০০ গজ দূরে কংস নদীর একটি বাঁকে স্থানীয় লোকজন একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন এবং উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। রাতেই দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে মরদেহ গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এতে তাদের সন্দেহ হলে দাফন বন্ধ রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার পর রাতে শিশুটির দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এ ঘটনায় ১৫ জুন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আরিফ, রাকিব, সিয়াম ও মারুফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৬ ও ১৭ জুন রাতে আসামিদের ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার আদালতে তোলা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে তারা জানায়, শিশু নিছামনিকে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে ডেকে নির্জন স্থানে নিয়ে এই চারজন মিলে ধর্ষণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় কংস নদীতে ফেলে দেয়। গ্রেপ্তারকৃত চার আসামির স্বীকারোক্তিতে উঠে আসে নৃশংসতার লোমহর্ষক চিত্র। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারকের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মাত্র ৯ দিনের মাথায় গত ২৩ জুন চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ।

ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট পেয়েছি এবং ঘটনা যাচাই-বাছাই শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। আসামিরা ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে এবং তার আলোকে আমরা সাক্ষ্য সংগ্রহ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছিলাম।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

শিশু নিছামনিকে ধর্ষণ-হত্যা, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত সময় ০৩:১৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চাঞ্চল্যকর শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নদীতে ফেলে হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক অপর আসামি মারুফকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের দোলাল মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া (১৯), তাহের উদ্দিনের ছেলে রাকিব মিয়া (১৯) ও একই গ্রামের সিয়াম। এছাড়া একই গ্রামের রমজান আলীর ছেলে মারুফ মিয়াকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নিহত পাঁচ বছর বয়সী নিছামনি টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে শিশু নিছামনি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৬০০ গজ দূরে কংস নদীর একটি বাঁকে স্থানীয় লোকজন একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন এবং উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। রাতেই দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে মরদেহ গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এতে তাদের সন্দেহ হলে দাফন বন্ধ রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার পর রাতে শিশুটির দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এ ঘটনায় ১৫ জুন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আরিফ, রাকিব, সিয়াম ও মারুফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৬ ও ১৭ জুন রাতে আসামিদের ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার আদালতে তোলা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে তারা জানায়, শিশু নিছামনিকে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে ডেকে নির্জন স্থানে নিয়ে এই চারজন মিলে ধর্ষণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় কংস নদীতে ফেলে দেয়। গ্রেপ্তারকৃত চার আসামির স্বীকারোক্তিতে উঠে আসে নৃশংসতার লোমহর্ষক চিত্র। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারকের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মাত্র ৯ দিনের মাথায় গত ২৩ জুন চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ।

ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট পেয়েছি এবং ঘটনা যাচাই-বাছাই শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। আসামিরা ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে এবং তার আলোকে আমরা সাক্ষ্য সংগ্রহ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছিলাম।