সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আব্দুল মান্নান (৪৫) নামে এক যুবদল নেতাকে এক নারীর ঘরে স্থানীয় লোকজন আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে উত্তম-মধ্যম দিয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও চিত্র বিদ্যুত গতিতে ভাইরাল হয়েছে সোসাল মিডিয়ায়।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার হরিনগর গ্রামের এক হিন্দু নারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর যুবদল নেতা হাফিজ কল্লোলকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে আহত যুবনেতাকে উদ্ধার করে।
শ্যামনগর পৌরসভার চন্ডিপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুল মান্নান ৬ নং ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই অন্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে চাঁদাদাবির ঘটনায় পৌর যুবদলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। যুবদল নেতা আঙ্গুর-কল্লোল গ্রুপের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মান্নান গত ২ মার্চ শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায়ও জড়িত ছিল।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আবুল কাশেম ও আবু হামজাসহ স্বৃথানীয় লোকজন জানান,বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা এক নারীর বাড়ি ঘেরাও করে।
এসময় ভিতর থেকে আটকানো ঘরের দরজা ভেঙে বস্ত্রহীন অবস্থায় আটকের পর আব্ন্নাদুল মান্ঘনান কে ঘরের খুঁটিতে বেঁধে মারধর করা হয়। আটককৃতরা নামীয় একটি এনজিও’তে কাজ সুত্রে পুর্বপরিচিত।
এঘটনার জন্য ঐ নারী যুবদল নেতা আব্দুল মান্নানকে দায়ি করেছে। বিভিন্ন সময়ে ব্লাকমেইলিংয়ের অংশ হিসেবে মান্নান প্রায়শই তার বাড়িতে যেয়ে আজেবাজে প্রস্তাব দিতেন বলে দাবি তার। একপর্যায়ে বাজার পৌছে দেয়ার অজুহাতে বৃহস্পতিবার ঘরে ঢুকলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে।
যুবদল নেতা মান্নানের বক্তব্য নেয়অর জন্য শুক্রবার বার বার চেষ্টা করেও মান্নানের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে যুবদল নেতা আব্দুল মান্নানকে পর নারীর শোবার ঘর থেকে বস্ত্রহীন অবস্থায় আটকের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যুৎ গতিতে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
শ্যামনগর পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক ফরিদুজ্জামান বাবু জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসছে। সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিউল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও কেউ কোন অভিযোগ করেনি। রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই দুই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিস্পত্তি করে তাদের সরিয়ে নেয়। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 









