ঢাকা ০৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
হুমকির মুখে জীব বৈচিত্র

সুন্দরবনে প্রজনন মৌসুমেও চলছে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার

প্রজনন মৌসুমেও চলছে পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার। এতে বনের গহীনে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও মাছের পোনা প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে। আর জেলে নামক এক শ্রেণীর দূর্বৃত্তদের এ কাজে সহযোগীতা করছেন বনবিভাগের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। ফলে প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে মাছ ধরা পাশ পারমিট বন্দ রাখা শুধু কাগজ কলমে সীমাবন্ধ থাকছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রে জানা গেছে, সুন্দবনের ৩১ শতাংশ জায়গা জুড়ে রয়েছে জলাভূমি। জালের মত ছড়িয়ে রয়েছে ৪৫০টি নদ-নদী। এই নদীতে রয়েছে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ। এর মধ্যে ২৬ প্রজাতির চিংড়ি, ১৩ প্রজাতির কাঁকড়াসহ অসংখ্য জলজ প্রানী। সরকার প্রতি বৎসর প্রাকৃতিক এই মৎস্য সম্পদ থেকে বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় করে থাকেন। বর্তমান সুন্দরবনে চলছে মাছের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ জন্য জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাস বনে মাছ শিকার এবং জেলেদের পাশ পারমিট বন্দ রয়েছে। কিন্তু কিছু জেলে নামক দূর্বৃত্তরা কম পরিশ্রমে অধিক মুনাফার আশায় অবৈধ ভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করছেন। আর বনের অভ্যন্তরে প্রতিটি খালে ও নদীতে পরিবেশ বিধ্বংসী বিষ প্রয়োগে করছেন মাছ শিকার। এমনকি মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত নিষিদ্ধ খালেও। তাদের এ কাজে প্রতিরোধ না করে আর্থিক চুক্তিতে সহযোগীতা করছেন বনবিভাগের দূর্নীতিবাজ কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী। বন সংলগ্ন এলাকার ঐ দূর্বৃত্তদের সঙ্গে কথিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর গভীর সখ্যতা এবং সহায়তার ফলে মাছের প্রজনন মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জানা গেছে মধ্য ভাটার সময় খালের গোড়ায় জাল পেতে খালের আগায় বিষ দেওয়া হয়। কিছুক্ষনের মধ্যে মাছগুলো ছটফট করতে করতে দূর্বল হয়ে ভাসতে ভাসতে জালে এসে আটকা পড়ে। এ কাজে সাধারণত ভারতীয় অবৈধ রিপকট, ক্যারাটে, হিলডন, ওস্তাদ ও বিষ পাউডারসহ বিভিন্ন বিষ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতে একদিকে যেমন বনের গহীনে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও মাছের পোনা ধ্বংস হচ্ছে। অন্যদিকে বিষ মিশ্রিত পানি পান করে বাঘ, হরিণসহ বনের নানা বন্য প্রানীও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। আবার ঐ বিষ মিশ্রিত মাছ খেয়ে জনসাধারণ পেটের পীড়াসহ নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযানে দুই একজন দূর্বৃত্ত বিষসহ হাতে নাতে আটক হলেও কখনো নেমে নেই এ কাজ। আর এতে মহা বিপাকে পড়েছেন বৈধ ভাবে মাছ শিকার করে এমন সব জেলেরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলেরা জানান, প্রতি অমাবস্যা ও পূর্নিমার গোনে নৌকা প্রতি উৎকোচ নিয়ে এ কাজে সহযোগীতা করেন বনবিভাগের দূর্নীতিবাজ কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা ডুবোজাল প্রতি নেয় ৫ হাজার টাকা আটনে ৩ হাজার ও দোনদড়িতে ১৫০০ টাকা। আর টাকা না দিলে বনে অবৈধ প্রবেশ ট্যাক দিয়ে বিভিন্ন ধারা যুক্ত করে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
এবিষয়ে ফিশ ফার্ম অনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব) ও খুলনা কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান শাহিন বলেন, প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া ধরা কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক এই সম্পদ অচিরেই বিলুপ্ত হতে পারে। সুন্দরবন এবং বনের জীব বৈচিত্র রক্ষা করতে হলে বনবিভাগকে আরো অগ্রগামী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রথমে বনের বিভিন্ন নদী, খাল এবং নিষিদ্ধ এলাকায় বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার বন্দো করতে হবে। এছাড়াও বাঘ, হরিণসহ বিভিন্ন বণ্যপ্রাণী শিকারও। অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে যে সব জেলে জড়িত তাদের কঠোর ভাবে বনে নিষিদ্ধ করতে হবে। তবে তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান অথবা ভাতার আওতায় আনতে হবে। আর ওই অবৈধ শিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া এ কাজে আর্থিক চুক্তিতে বনবিভাগের দূর্নীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী সহযোগীতা করছেন তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলে সুন্দরবনের পরিবেশ ফিরে আসবে এবং বনের জীব বৈচিত্র রক্ষা পাবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুদীপ বালা জানান, বিষ মিশ্রিত মাছ খেলে মানুষের কিডনি ও লিভার ক্ষতিগ্রস্থ্য হতে পারে। বিষ মিশ্রিত পানি খেলে বিভিন্ন প্রাণীরও একই সমস্যা হতে পারে।
এবিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক বলেন, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড। এতে মাছের পাশাপাশি পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে এ ধরনের কর্মকান্ডের নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব বন বিভাগের। মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আমরা জেলেদের সচেতন করছি এবং বিষমুক্ত ও টেকসই পদ্ধতিতে মাছ আহরণের জন্য উদ্বুদ্ধ করছি। সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এব্যাপারে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, প্রজনন মৌসুমে এ পর্যন্ত বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারসহ বনে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। এছাড়া ৩০টি বিষের ছোট বোতল ও ২টি বড় বোতলসহ ১৫টি নৌকা, ১০টি জাল এবং বিষ মিশ্রিত প্রায় ১৪২ কেজি মাছ জব্দ করা হয়। আর দুই বস্তা শুটকি মাছও জব্দ করা হয়। যা পরে নিলামের মাধ্যমে ৬৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রয় করা হয়েছে। তাছাড়া জেলেদের অনুপ্রবেশ বন্ধে ২০টি ভারানি খালের মুখ বেরিকেট দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সার্বক্ষনিক ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি রাখা হচ্ছে। তবে অন্যান্য বারের তুলনায় এবার বনে অনুপ্রবেশ অনেক কম আছে বলে মনে করেন তিনি। আর যদি কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী এর সঙে জড়িত প্রমান পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

হুমকির মুখে জীব বৈচিত্র

সুন্দরবনে প্রজনন মৌসুমেও চলছে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার

প্রকাশিত সময় ১২:২০:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

প্রজনন মৌসুমেও চলছে পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার। এতে বনের গহীনে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও মাছের পোনা প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে। আর জেলে নামক এক শ্রেণীর দূর্বৃত্তদের এ কাজে সহযোগীতা করছেন বনবিভাগের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। ফলে প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে মাছ ধরা পাশ পারমিট বন্দ রাখা শুধু কাগজ কলমে সীমাবন্ধ থাকছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রে জানা গেছে, সুন্দবনের ৩১ শতাংশ জায়গা জুড়ে রয়েছে জলাভূমি। জালের মত ছড়িয়ে রয়েছে ৪৫০টি নদ-নদী। এই নদীতে রয়েছে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ। এর মধ্যে ২৬ প্রজাতির চিংড়ি, ১৩ প্রজাতির কাঁকড়াসহ অসংখ্য জলজ প্রানী। সরকার প্রতি বৎসর প্রাকৃতিক এই মৎস্য সম্পদ থেকে বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় করে থাকেন। বর্তমান সুন্দরবনে চলছে মাছের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ জন্য জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাস বনে মাছ শিকার এবং জেলেদের পাশ পারমিট বন্দ রয়েছে। কিন্তু কিছু জেলে নামক দূর্বৃত্তরা কম পরিশ্রমে অধিক মুনাফার আশায় অবৈধ ভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করছেন। আর বনের অভ্যন্তরে প্রতিটি খালে ও নদীতে পরিবেশ বিধ্বংসী বিষ প্রয়োগে করছেন মাছ শিকার। এমনকি মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত নিষিদ্ধ খালেও। তাদের এ কাজে প্রতিরোধ না করে আর্থিক চুক্তিতে সহযোগীতা করছেন বনবিভাগের দূর্নীতিবাজ কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী। বন সংলগ্ন এলাকার ঐ দূর্বৃত্তদের সঙ্গে কথিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর গভীর সখ্যতা এবং সহায়তার ফলে মাছের প্রজনন মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জানা গেছে মধ্য ভাটার সময় খালের গোড়ায় জাল পেতে খালের আগায় বিষ দেওয়া হয়। কিছুক্ষনের মধ্যে মাছগুলো ছটফট করতে করতে দূর্বল হয়ে ভাসতে ভাসতে জালে এসে আটকা পড়ে। এ কাজে সাধারণত ভারতীয় অবৈধ রিপকট, ক্যারাটে, হিলডন, ওস্তাদ ও বিষ পাউডারসহ বিভিন্ন বিষ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতে একদিকে যেমন বনের গহীনে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও মাছের পোনা ধ্বংস হচ্ছে। অন্যদিকে বিষ মিশ্রিত পানি পান করে বাঘ, হরিণসহ বনের নানা বন্য প্রানীও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। আবার ঐ বিষ মিশ্রিত মাছ খেয়ে জনসাধারণ পেটের পীড়াসহ নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযানে দুই একজন দূর্বৃত্ত বিষসহ হাতে নাতে আটক হলেও কখনো নেমে নেই এ কাজ। আর এতে মহা বিপাকে পড়েছেন বৈধ ভাবে মাছ শিকার করে এমন সব জেলেরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলেরা জানান, প্রতি অমাবস্যা ও পূর্নিমার গোনে নৌকা প্রতি উৎকোচ নিয়ে এ কাজে সহযোগীতা করেন বনবিভাগের দূর্নীতিবাজ কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা ডুবোজাল প্রতি নেয় ৫ হাজার টাকা আটনে ৩ হাজার ও দোনদড়িতে ১৫০০ টাকা। আর টাকা না দিলে বনে অবৈধ প্রবেশ ট্যাক দিয়ে বিভিন্ন ধারা যুক্ত করে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
এবিষয়ে ফিশ ফার্ম অনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব) ও খুলনা কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান শাহিন বলেন, প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া ধরা কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক এই সম্পদ অচিরেই বিলুপ্ত হতে পারে। সুন্দরবন এবং বনের জীব বৈচিত্র রক্ষা করতে হলে বনবিভাগকে আরো অগ্রগামী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রথমে বনের বিভিন্ন নদী, খাল এবং নিষিদ্ধ এলাকায় বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার বন্দো করতে হবে। এছাড়াও বাঘ, হরিণসহ বিভিন্ন বণ্যপ্রাণী শিকারও। অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে যে সব জেলে জড়িত তাদের কঠোর ভাবে বনে নিষিদ্ধ করতে হবে। তবে তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান অথবা ভাতার আওতায় আনতে হবে। আর ওই অবৈধ শিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া এ কাজে আর্থিক চুক্তিতে বনবিভাগের দূর্নীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী সহযোগীতা করছেন তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলে সুন্দরবনের পরিবেশ ফিরে আসবে এবং বনের জীব বৈচিত্র রক্ষা পাবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুদীপ বালা জানান, বিষ মিশ্রিত মাছ খেলে মানুষের কিডনি ও লিভার ক্ষতিগ্রস্থ্য হতে পারে। বিষ মিশ্রিত পানি খেলে বিভিন্ন প্রাণীরও একই সমস্যা হতে পারে।
এবিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক বলেন, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড। এতে মাছের পাশাপাশি পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে এ ধরনের কর্মকান্ডের নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব বন বিভাগের। মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আমরা জেলেদের সচেতন করছি এবং বিষমুক্ত ও টেকসই পদ্ধতিতে মাছ আহরণের জন্য উদ্বুদ্ধ করছি। সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এব্যাপারে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, প্রজনন মৌসুমে এ পর্যন্ত বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারসহ বনে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। এছাড়া ৩০টি বিষের ছোট বোতল ও ২টি বড় বোতলসহ ১৫টি নৌকা, ১০টি জাল এবং বিষ মিশ্রিত প্রায় ১৪২ কেজি মাছ জব্দ করা হয়। আর দুই বস্তা শুটকি মাছও জব্দ করা হয়। যা পরে নিলামের মাধ্যমে ৬৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রয় করা হয়েছে। তাছাড়া জেলেদের অনুপ্রবেশ বন্ধে ২০টি ভারানি খালের মুখ বেরিকেট দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সার্বক্ষনিক ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি রাখা হচ্ছে। তবে অন্যান্য বারের তুলনায় এবার বনে অনুপ্রবেশ অনেক কম আছে বলে মনে করেন তিনি। আর যদি কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী এর সঙে জড়িত প্রমান পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।