ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চরম ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সেবা গ্রহীতারা

চিতলমারীতে ভূমি অফিস ও স্কুলের ভূমি আছে, রাস্তা নেই

বাগেরহাটের চিতলমারীর সন্তোষপুর ও চরবানিয়ারী ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব ভূমি আছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটির জন্য কোন রাস্তা তৈরি হয়নি। ফলে এই বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কর্দমক্ততায় স্কুলে আসা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ভূমি অফিসে আসা সেবা গ্রহীতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নে ১৯৩৯ সালে ৪২ শতক জমির উপর সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আরও অনেক আগে ৪১ শতক জমির উপর সন্তোষপুর ও চরবানিয়ারী ইউনিয়ন ভূমি অফিস প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটির জন্য কোন রাস্তা তৈরি হয়নি। ফলে বর্তমান বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কর্দমক্ততায় স্কুলে আসা ১৩১ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ভূমি অফিসে আসা অসংখ্য সেবা গ্রহীতা চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে।

সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী সপ্তর্ষি রানা, সিয়াম হোসেন, কারিমন আক্তার, জান্নাতুল রাফিয়া, আয়শা আক্তার, পার্থ মজুমদার ও বিষাণ মজুমদার জানায়, তাদের স্কুলে যাতায়াতের নিজস্ব কোন রাস্তা নেই। জল-কাঁদা মাড়িয়ে অনেক কষ্টে তাদের স্কুলে চলাচল করতে হয়।

সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছায়া রাণী ব্রহ্ম জানান, তাঁদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য কোন রাস্তা আজ পর্যন্ত তৈরি হয়নি। ফলে চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়া পাশের ভূমি অফিসে আসা সেবা গ্রহীতারা তাদের স্কুলের বারান্দা ব্যবহার করেন। এতে পাঠদান মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয়।

সন্তোষপুর ও চরবানিয়ারী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সেবা গ্রহীতা তাহিদুর রহমান বাবু, সাফায়েত হোসেন ও সুবল কর্মকার জানান, ভূমি অফিসের নিজস্ব কোন রাস্তা থাকায় কাঁদা ও পানি মাড়িয়ে অতিকষ্টে অফিসের কাজ সারতে হয়। অনেক সময় পানিতে পড়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিজে নষ্ট হয়।

সন্তোষপুর ও চরবানিয়ারী ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কমৃকর্তা মনোজ বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা এই অফিসে মোট ৫ জন স্টাফ রয়েছি। এছাড়া প্রতিদিন অসংখ্য সেবা গ্রহীতা আসেন কাঁদা ও জলের জন্য তাঁদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘রাস্তার ঘটনাটি আমরা কিছুদিন হলো জেনেছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি।’

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

চরম ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সেবা গ্রহীতারা

চিতলমারীতে ভূমি অফিস ও স্কুলের ভূমি আছে, রাস্তা নেই

প্রকাশিত সময় ০৪:২৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

বাগেরহাটের চিতলমারীর সন্তোষপুর ও চরবানিয়ারী ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব ভূমি আছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটির জন্য কোন রাস্তা তৈরি হয়নি। ফলে এই বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কর্দমক্ততায় স্কুলে আসা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ভূমি অফিসে আসা সেবা গ্রহীতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নে ১৯৩৯ সালে ৪২ শতক জমির উপর সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আরও অনেক আগে ৪১ শতক জমির উপর সন্তোষপুর ও চরবানিয়ারী ইউনিয়ন ভূমি অফিস প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটির জন্য কোন রাস্তা তৈরি হয়নি। ফলে বর্তমান বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কর্দমক্ততায় স্কুলে আসা ১৩১ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ভূমি অফিসে আসা অসংখ্য সেবা গ্রহীতা চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে।

সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী সপ্তর্ষি রানা, সিয়াম হোসেন, কারিমন আক্তার, জান্নাতুল রাফিয়া, আয়শা আক্তার, পার্থ মজুমদার ও বিষাণ মজুমদার জানায়, তাদের স্কুলে যাতায়াতের নিজস্ব কোন রাস্তা নেই। জল-কাঁদা মাড়িয়ে অনেক কষ্টে তাদের স্কুলে চলাচল করতে হয়।

সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছায়া রাণী ব্রহ্ম জানান, তাঁদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য কোন রাস্তা আজ পর্যন্ত তৈরি হয়নি। ফলে চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়া পাশের ভূমি অফিসে আসা সেবা গ্রহীতারা তাদের স্কুলের বারান্দা ব্যবহার করেন। এতে পাঠদান মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয়।

সন্তোষপুর ও চরবানিয়ারী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সেবা গ্রহীতা তাহিদুর রহমান বাবু, সাফায়েত হোসেন ও সুবল কর্মকার জানান, ভূমি অফিসের নিজস্ব কোন রাস্তা থাকায় কাঁদা ও পানি মাড়িয়ে অতিকষ্টে অফিসের কাজ সারতে হয়। অনেক সময় পানিতে পড়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিজে নষ্ট হয়।

সন্তোষপুর ও চরবানিয়ারী ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কমৃকর্তা মনোজ বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা এই অফিসে মোট ৫ জন স্টাফ রয়েছি। এছাড়া প্রতিদিন অসংখ্য সেবা গ্রহীতা আসেন কাঁদা ও জলের জন্য তাঁদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘রাস্তার ঘটনাটি আমরা কিছুদিন হলো জেনেছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি।’