ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে মাতামুহুরীর পানি বিপদসীমার ওপরে,পানিবন্দি লাখো মানুষ

চারদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

চকরিয়া উপজেলার বরইতলী, বমু বিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, ফাঁসিয়াখালী, চিরিংগা, বরইতলী, হারবাং এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর, সাহারবিল ইউনিয়নের নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অনেক ফসলি জমি, চিংড়ির ঘের পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় দুই উপজেলার পাহাড়ি এলাকার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসন মাইকিং করছে।

চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা এডভোকেট মঈনুল আমিন বলেন, চার দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। বৃষ্টি থামলেই মনে হয় পানি নামবে,কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার মুষলধারে বৃষ্টি আরম্ভ হয়। রাস্তাঘাটে পানির নিচে চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের কৃষক সৈয়দ আলম বলেন,আমনের বীজতলা ও সবজি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

চকরিয়া পৌরসভার রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম বলেন,বৃষ্টির কারণে যাত্রী কম। সারাদিন রিকশা চালিয়েও ঠিকমতো আয় হচ্ছে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীদ দেলোয়ার বলেন,ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। উজানের পানি যাতে দ্রুত ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে সেজন্য উপকূলীয় ইউনিয়ন গুলোর পানি নিষ্কাশনের স্লুইস গেটগুলোর কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম জানান, মাতামুহুরী নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। দুপুর দুপুর ১২টা পর্যন্ত নদীর পানি বিপদসীমা ১১.৮০ মিটার অতিক্রম করে ১১.৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

 

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক পরিচিতি

জনপ্রিয়

পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে মাতামুহুরীর পানি বিপদসীমার ওপরে,পানিবন্দি লাখো মানুষ

প্রকাশিত সময় ০৯:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

চারদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

চকরিয়া উপজেলার বরইতলী, বমু বিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, ফাঁসিয়াখালী, চিরিংগা, বরইতলী, হারবাং এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর, সাহারবিল ইউনিয়নের নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অনেক ফসলি জমি, চিংড়ির ঘের পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় দুই উপজেলার পাহাড়ি এলাকার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসন মাইকিং করছে।

চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা এডভোকেট মঈনুল আমিন বলেন, চার দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। বৃষ্টি থামলেই মনে হয় পানি নামবে,কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার মুষলধারে বৃষ্টি আরম্ভ হয়। রাস্তাঘাটে পানির নিচে চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের কৃষক সৈয়দ আলম বলেন,আমনের বীজতলা ও সবজি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

চকরিয়া পৌরসভার রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম বলেন,বৃষ্টির কারণে যাত্রী কম। সারাদিন রিকশা চালিয়েও ঠিকমতো আয় হচ্ছে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীদ দেলোয়ার বলেন,ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। উজানের পানি যাতে দ্রুত ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে সেজন্য উপকূলীয় ইউনিয়ন গুলোর পানি নিষ্কাশনের স্লুইস গেটগুলোর কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম জানান, মাতামুহুরী নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। দুপুর দুপুর ১২টা পর্যন্ত নদীর পানি বিপদসীমা ১১.৮০ মিটার অতিক্রম করে ১১.৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।