ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহেশপুর বুকসমান কাদায় তিন মাস বন্দী ৪ মহিষ উদ্ধার

ঝিনাইদহের মহেশপুরে দীর্ঘ তিন মাস ধরে বুকসমান কাদায় অভুক্ত ও শিকলবন্দী অবস্থায় আটকে থাকা চারটি মহিষকে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলোকে মুক্ত করেন।
উপজেলার গোকুলনগর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। মহিষগুলোর মালিক ওই গ্রামের মৃত ফরজ আলীর ছেলে আব্দুল আলিম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে আব্দুল আলিম মহিষগুলোকে মাঠে চরাতে নেওয়া বন্ধ করে দেন। এরপর বাড়ির পাশের চারটি পৃথক গাছের সঙ্গে সেগুলোকে বেঁধে রাখা হয়। দিনের পর দিন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকায় বৃষ্টি এবং পায়ের খুরের চাপে চারপাশের মাটি গভীর ও থকথকে কাদায় পরিণত হয়।
খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে বুকসমান কাদার মধ্যেই দাঁড়িয়ে ছিল প্রাণীগুলো। সামান্য কিছু খড় আর পানি ছাড়া তাদের আর কোনো খাবার দেওয়া হতো না।
এদিকে অভিযুক্ত আব্দুল আলিমকে বাড়িতে পাওয়া না গেলেও তাঁর মা সত্য খাতুন বলেন, ‘আমরা প্রাণীগুলোকে কষ্ট না দিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু আলিম কথা শোনেনি। আমরা ভয়ে মহিষগুলোর কাছে যেতে পারতাম না।’
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, আলিম তন্ত্রমন্ত্রের সাধনা করেন এবং সেই সম্পর্কিত কোনো উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে মহিষগুলোকে এভাবে আটকে রেখেছিলেন। তবে এ দাবির বিষয়ে আলিমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রোববার মহিষগুলোর করুণ অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন স্থানীয় পরিবেশকর্মী নাজমুল হোসেন। বিষয়টি নজরে আসার পর সন্ধ্যায় গোকুলনগর গ্রামে যান মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন। তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় গাছ থেকে মহিষ চারটিকে মুক্ত করে অপেক্ষাকৃত শুকনো ও নিরাপদ স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
পরিবেশকর্মী নাজমুল হোসেন বলেন, ‘গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত অবুঝ প্রাণীগুলোর এই যন্ত্রণা দেখলেও মালিকের কারণে কিছু করতে পারছিল না। পোস্ট করার পর ইউএনও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রাণীগুলোকে রক্ষা করেছেন।’
ঘটনার বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গিয়ে কাদা থেকে মহিষ চারটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রাণীগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় খাবারের সুব্যবস্থা করা হয়।
ইউএনও আরও জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উপযুক্ত ও মানবিক পরিবেশ তৈরি না করা হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রিয়

মহেশপুর বুকসমান কাদায় তিন মাস বন্দী ৪ মহিষ উদ্ধার

প্রকাশিত সময় ০৭:১৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

ঝিনাইদহের মহেশপুরে দীর্ঘ তিন মাস ধরে বুকসমান কাদায় অভুক্ত ও শিকলবন্দী অবস্থায় আটকে থাকা চারটি মহিষকে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলোকে মুক্ত করেন।
উপজেলার গোকুলনগর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। মহিষগুলোর মালিক ওই গ্রামের মৃত ফরজ আলীর ছেলে আব্দুল আলিম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে আব্দুল আলিম মহিষগুলোকে মাঠে চরাতে নেওয়া বন্ধ করে দেন। এরপর বাড়ির পাশের চারটি পৃথক গাছের সঙ্গে সেগুলোকে বেঁধে রাখা হয়। দিনের পর দিন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকায় বৃষ্টি এবং পায়ের খুরের চাপে চারপাশের মাটি গভীর ও থকথকে কাদায় পরিণত হয়।
খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে বুকসমান কাদার মধ্যেই দাঁড়িয়ে ছিল প্রাণীগুলো। সামান্য কিছু খড় আর পানি ছাড়া তাদের আর কোনো খাবার দেওয়া হতো না।
এদিকে অভিযুক্ত আব্দুল আলিমকে বাড়িতে পাওয়া না গেলেও তাঁর মা সত্য খাতুন বলেন, ‘আমরা প্রাণীগুলোকে কষ্ট না দিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু আলিম কথা শোনেনি। আমরা ভয়ে মহিষগুলোর কাছে যেতে পারতাম না।’
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, আলিম তন্ত্রমন্ত্রের সাধনা করেন এবং সেই সম্পর্কিত কোনো উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে মহিষগুলোকে এভাবে আটকে রেখেছিলেন। তবে এ দাবির বিষয়ে আলিমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রোববার মহিষগুলোর করুণ অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন স্থানীয় পরিবেশকর্মী নাজমুল হোসেন। বিষয়টি নজরে আসার পর সন্ধ্যায় গোকুলনগর গ্রামে যান মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন। তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় গাছ থেকে মহিষ চারটিকে মুক্ত করে অপেক্ষাকৃত শুকনো ও নিরাপদ স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
পরিবেশকর্মী নাজমুল হোসেন বলেন, ‘গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত অবুঝ প্রাণীগুলোর এই যন্ত্রণা দেখলেও মালিকের কারণে কিছু করতে পারছিল না। পোস্ট করার পর ইউএনও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রাণীগুলোকে রক্ষা করেছেন।’
ঘটনার বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গিয়ে কাদা থেকে মহিষ চারটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রাণীগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় খাবারের সুব্যবস্থা করা হয়।
ইউএনও আরও জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উপযুক্ত ও মানবিক পরিবেশ তৈরি না করা হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।