সুন্দরবন উপকূলীয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ১৪৯ নং শ্রীফলকাটি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে বর্ষার শুরুতেই দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা।
মাঠে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্যান্ট গুটিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় বই-খাতাসহ স্কুলব্যাগ পানিতে ভিজে যাচ্ছে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠটি নিচু হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে চারপাশে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। চলতি বছরও একই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের টয়লেটে যাওয়ার পথও পানির নিচে তলিয়ে থাকায় শিশুদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম গত ৮ জুলাই সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
আবেদনে তিনি বিদ্যালয়ের পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাঠ ভরাটের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বর্তমান সরকার শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে এই বিদ্যালয়ের শিশুরা স্বাভাবিকভাবে ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান , মাঠটি ভরাট ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে শুধু শিক্ষার পরিবেশই উন্নত হবে না, শিশুদের খেলাধুলার সুযোগও নিশ্চিত হবে।
এ বিষয়ে শ্রীফলকাটি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শিশুদের কষ্ট দেখে আর চুপ করে থাকা সম্ভব হয়নি। তাই জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে বিদ্যালয়ে আসতে পারবে।
সাতক্ষীরা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন বলেন, মাঠের জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। জেলা প্রশাসক এর সাথেও কথা বলা হয়েছে। তিনি জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চপর্যয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি 















