পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ১ নং ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর ভিটাবাড়িয়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে সুমাইয়া আক্তার (২৪) নামের এক দুই সন্তানের জননী আত্মহত্যা করেছেন | নিহত সুমাইয়া ওই গ্রামের মোঃ হাসান ডাকুয়ার স্ত্রী| তিনি সাড়ে তিন বছরের একটি ছেলে এবং আড়াই মাসের একটি কন্যাসন্তানের মা ছিলেন| সুমাইয়ার পিতার বাড়ি মঠবাড়িয়া উপজেলা|
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে নিজ গৃহের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দেন সুমাইয়া| বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিবেশীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান| সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন| পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর সেখানে তিনি মারা যান|
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহতের মরদেহ স্বামীর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে|
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমাইয়ার স্বামী হাসান ডাকুয়া দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং সেখানে তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন| এই নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ ও মানসিক টানাপোড়েন চলছিল| এই দ্বিতীয় বিবাহের জের ধরেই সুমাইয়া আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা|
এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, ঘটনার পরে চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল| সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন| এই ব্যাপারে খুলনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে| নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|
ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি 













