কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মাদকের টাকা ভাগবাটোয়ারা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একদল সন্ত্রাসীর বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত রাত (১৮ জুলাই ২০২৬) আনুমানিক রাত ০১.০০ ঘটিকার সময় উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর ব্রিক ফিল্ড এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোঃ সামিরুল ইসলাম (৪৫) (পিতা- মোঃ সামছুদ্দিন মোল্লা, গ্রাম- ওসমানপুর)-এর নেতৃত্বে দেবীনগর, হিজলাবট, খানপুর ও ওসমানপুর ব্রিক ফিল্ড গ্রামের আনুমানিক ৮০ থেকে ১০০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অপর এক মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী মোঃ ছালিম হোসেন (৪০) (পিতা- মোঃ জামাল হোসেন)-এর দেবীনগরের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার বিষয়টি টের পেয়ে ছালিম হোসেন কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
তবে ওই সময় ছালিমের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তিন ব্যক্তি:
১. মোঃ ফারুক হোসেন (৪৫), পিতা- মৃত চাঁদ আলী/চাঁদ ভাউন্দার, গ্রাম- দেবীনগর।
২. মোঃ আব্দুল শেখ (২৫), পিতা- মোঃ আতিয়ার শেখ, গ্রাম- খানপুর।
৩. মোঃ মুল্লুক মন্ডল (৩৫), পিতা- কাটে মন্ডল, গ্রাম- শ্রীপুর (সর্ব বর্তমান গ্রাম- ওসমানপুর ব্রিক ফিল্ড)।
মূল লক্ষ্য ছালিমকে বাড়িতে না পেয়ে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সামিরুল ইসলামের অনুসারীরা। তারা ঘরে থাকা ওই তিনজনকে লক্ষ্য করে চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ধারালো অস্ত্রের নির্মম ও উপর্যুপরি আঘাতে ঘটনাস্থলেই মোঃ ফারুক হোসেন এবং মোঃ আব্দুল শেখের মৃত্যু হয়। অপর আহত ব্যক্তি মোঃ মুল্লুক মন্ডলকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। হামলার মিশন শেষ করে শীর্ষ সন্ত্রাসী সামিরুল ইসলাম ও তার বিশাল দলবল দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খবর পেয়ে খোকসা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। জোড়া খুনের এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
খোকসা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের টাকা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িত মূল হোতা সামিরুলসহ সকল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।
খোকসা থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেন জানান, শনিবার বিকালে দুই গ্রুপের মধ্যে গোলমাল হয়। ঐ গোলমালের জেরে রাত ১ টার সময় সামিরুল গ্রুপ হামলা করে সালিমের বাড়িতে দুইজনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় আরেকজন আহত হয়েছে । নিহত দুজনের লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি। আসামিদেরকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 















